হাওয়ায় খানিক ভুলের বাতাশ

সুচারু সমুদ্দুরের পথ—ক্লান্ত
শূয়ারের বিছানায় লাভা রক্তিম
জীবনের এলোপাথাড়ি ছুটোছুটি
শ্যামনগর; যার সুখের নাম—তবু
পেলাম না আর ভালোবাসা!

সারাটি রাত তুমি জেগে থাকো প্রিয়তমা এই অন্ধকার জীবন ছেড়ে—আমি দেখি আর কেউ নেই এমন অভিশপ্ত লাইনে দাঁড়িয়ে। তুমি তবে ভুল দেখছিলে; শরাবের বোতল ফেটে পড়তে চাইছিলো খোদার প্রেম—যেনো মহীরুহ এক সুতীব্র আহ্বান সুরেশ বাতাশের কোমড় ভাঙা ঢেউ। আজ আকাশ সঙ্গে নেইতো আমার দিন মুড়ে যায়নি পায়ের পিষ্ট কোনো ছাপের খাঁজ বেরিয়ে। মুড়মুড় আওয়াজে কী যেনো ভাঙছিলো—অচেনা আওয়াজ তবু চেনা যায় না, এই পৃথিবীর রঙ কি! ডেকে লও হে, ডেকে লও—প্রিয়তমা!

বিদ্রোহ জ্বালা করে বুকের ভেতরে কোনো এক বারান্দার চৌকাঠ পুড়ে। আমি জানিনা সে ফুলের আর্তনাদ কেমন। দেখতে দেখতে মাস গড়িয়ে যায়, বছরের পা ধরে বলতে থাকে শূয়ারের বাচ্চাটি; মেরে ফেলো না আমাকে—পিপাসিত কালো বোরকার সেই নারীর ঔজ্জ্বল্য তোমার হৃৎপিন্ডের লাল চেহারায় গেঁথে আছে, হে স্বর্গীয় পুরুষ। আমি বারবার হাহাকার করে উঠছিলাম; এই বুঝি ভেঙে গেলো ইজি চেয়ারে পড়ে থাকা আমার নিস্তব্ধ কোমড়ের ঝুলন্ত জীবন। তারপর খুঁজে পাই হেঁটে যাওয়া প্রান্তের বাসস্ট্যান্ডে, আক্ষরিক শব্দের বাক্য মিলিয়েই তুমি সেদিন হারিয়ে গিয়েছিলে—সেইসব পুরোনো নদীর বিভ্রান্ত গানের ভীড়ে।

দেখো দেখো কাকটি ধরেছে পানির কল্লা টিপে খাবে, ছাড়বে না অধিকারের ভাঙা ভাঙা সীমানাও—রহস্য কি তোমারও নেই প্রিয়তমা? জানলার ফাঁকা গ্রিলের কাঁচ উপড়িয়ে, আজ আরও একটু দেখো ধোঁড় কাকের ভয়ে সূর্যমুখী, বকুল আর জবারা মিছিলে নামেনি, রাজপথ আটকে রেখেছে কিছু সন্ত্রাসী প্রেমিক—তুমি আজ বেরিওনা আমার ভেতরের সাজানো ঘরের অগোছালো বাসন ছেড়ে। রাজপথ জমিয়ে রাখা উত্তাল প্রেমিকদের টিয়ারগ্যাস আর রাবার বুলেটের জখমে শ্বাস আটকে মরে যাবে তুমি; আর ফাসির কাষ্ঠে ঝুলতে থাকবে আমার বুকের ফালি ফালি হাড়।

কে ধরবে তোমাকে ছাড়া এই বনগুলোর মালিকানায় ডুবিয়ে রাখা চিঠিতে সিগনেচার করা দিন! হায় আজ সত্যিই তুমি দেখছো সেই কতোদূরের মাটিচাপা গন্ধের ভয়ে তোমাকে লুকিয়েছিলাম শাদা শাদা থানকাপড়ের বিছানায়। আমি জানি ঢিপঢিপ চোখে আমাকে তুমি এখনো দেখছো দিনের পর দিন—অথচ মিটিমিটি হাসির বন্দি খাঁচায় জলকেলির বিষণ্ণ রঙে ডুবে গেছে অসংখ্য চাঁদের কোলাজ কিংবা কোলাহলের মুক্ত বাতাশ। তবুও কি ডাকার ইচ্ছে হয় না? যদি আবার আমাকে ডাকতে তোমার মতোন—হ্যাঁ; তবে নিমিষেই আমি চলে আসতাম নিরামিষ ছেড়ে—তোমার সাদরে গ্রহণ আমিষ স্বাদের অপেক্ষায়।

সোনালী ফুল কিংবা কার্বন প্রতিযোগিতায় হেরেমের দরজা খুলে যায়; পর্দা ওঠে তাওয়াফের। কাহাতে কার মাঝে ছড়িয়ে আছে আতরের ঘ্রাণ—তুমি নাকি তাতেই লুকোনো পারফিউমের শব্দে আঁকা কাল্পনিক অস্তিত্বগুলোর প্রান্ত সীমায় বসে বসে গাইছো হাজির ইয়া হাজির—হে পালনের প্রিয়তমা!

ফাঁকিবাজ যুবকের পায়ে পিষ্ট শালিকের ওড়াউড়ি বন। আঁধারে কাপছে অন্ধ শকুনের সুয়াল। না মানে প্রেম শাস্ত্রজ্ঞানের মাপকাঠি। তুমি মহান, হে আমার প্রিয় শেষ রাত্তিরের কোলাজ—রহমের গাছগুলো দেখো, হাজার হাজার পাতারা নড়ে পড়ছে একটু বাতাশ—তুমি আমার শিয়রে বসে আছো রহমানি সেইসব দিন।

Facebook Comments