শ্রাবণের কমলা সন্ধ্যা

শ্রাবণের মেঘগুলো কমলা রঙের হয়ে গেছে আসন্ন সন্ধ্যায়। জীবনে খুব কম-ই দেখেছি এরকম সন্ধ্যা। বৃষ্টিতে বৃষ্টিতে একেবারে আর্দ্র হয়ে গেছে সন্ধ্যার আকাশ, মাটি এবং পাহাড়। কি ভেবে কি হবে, কি হবে না—ওসব ভাববার সময় নেই। জীবনের প্রকৃত পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে কমলা সন্ধ্যায়। মানুষের কোনো ক্ষমতা নেই—মানুষ মূলত মাটির তৈরি দেহ ছাড়া কিছু নয়।

কামুক দৃষ্টি ফেরারি হয়ে যাচ্ছে—তুমি আমার কেউ নও এখন। আমি আবারও নিঃসঙ্গতার ভয়াল রাত্রিতে খুঁজেছি তৃষ্ণার্ত ঠোঁট, উষ্ণতা। শ্রাবণের মেঘগুলো সরে যেতে যেতে বুকের কোণে জমে উঠেছে তুমুল বিতৃষ্ণার পাহাড়।

চোখের পাতায় যেরকম সিক্ততা অনুভূত হয়—তারচে বরং আমার চোখ সমুদ্র হয়ে যাক। চোখ-সমুদ্রে ভেসে আছি পরাবর্ত বাস্তবতার উপর ভিত্তি করে। জীবন চালিত বাইকের মতো দ্রুতগতিতে ছুটে চলার নাম নয়—জীবন যেভাবে চলে, এগোয়। তার সবটুকু প্রভাব বিস্তার করে মানসে।

সন্ধ্যা পরবর্তী দুঃসহ মুহূর্তগুলোকে আরো গভীরতর খাদে ফেলে এসেছি—যতবার ভাবি, ততবারই মনে পড়ে প্রণয়ী সুর। প্রণীত অধ্যায়ের পৃষ্ঠায় যা ছিল—কিম্ভূত কবিতা এবং কমলা সন্ধ্যার অদৃশ্য হাহাকার।

জীবনে যা চেয়েছি—হারিয়ে ফেলেছি তারচে দ্বিগুণ। শখের বৃক্ষ থেকে শুরু করে বিপুল পরিমাণ স্বপ্ন’ও বিসর্জিত হয়েছে, আমার মন তো নেই আর প্রসন্নময়ী সকালের মতো—হয়ে গেছে শ্রাবণের ঝরো ঝরো বৃষ্টি।

এসেছে আবার—পরাবৃত্ত কিশোরী; যে স্ব-ইচ্ছায় হারিয়েছিল প্রেমিকের সাথে। বৃদ্ধ মা শোকে পাথর হয়ে গেছে শেষে। কি নির্বিবাদে চলে গেলো কিশোরী—মায়ের ঋণ শোধ না করেই৷ আবার এসেছে ফিরে, ভুলে গেছে মায়ের অসুস্থতার কথা। স্বার্থপরতার ভ্রম কেটেছে এবার।

যাকিছুই ঘটে যাক জীবনে—এমন কমলা সন্ধ্যায় আমি মা’কে ছেড়ে কোথাও যাব না। সমস্ত বিষাদ শেষে আশ্রয় তো এই একটাই, মায়ের আঁচলের আর্দ্রতা।

Facebook Comments