শেষ কোথায়

দিন দিন মন মেজাজ সব উগ্র হয়ে যাচ্ছে জামিলের। সারাদিন গাড়িতে কাজ করে এসে সদ্য অন্তঃস্বত্বা স্ত্রীকে মারধোর করে। বেচারি লাইলী এসব মেনেই নয় বছর থেকে সংসার করে আসছে।

লাইলীর যখন বিয়ে হয়, তখন ওর বয়স ছিলো চোদ্দ বছর। স্বামী জামিল ড্রাইভিং শিখে বাসের ড্রাইভারী কাজে নিযুক্ত ছিলো। কিন্তু নেশার জগতে পা দেওয়ার পরপরই কোনোকিছুই ধরে রাখতে পারলো না।

বিয়ের দুবছর পরই ফুটফুটে এক কন্যাসন্তান জন্ম দেয় লাইলী। স্বামীর এতসব অন্যায় অবিচারের পরও মেয়ের মুখের দিকে চেয়ে সংসারটা করে যাচ্ছে সে।

এদিকে জামিলের নেশার পরিমাণ দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। দু’দিন গাড়ি চালিয়ে যা উপার্জন করে তা দিয়ে নেশা করে পড়ে থাকে আর দুই চার দিন। এদিকে সংসারের অবস্থা বেহাল। স্ত্রী কন্যার প্রতি কোনো দায়িত্ব নেই জামিলের। মা বাবার সাথেও ইদানিং দুর্ব্যবহার করে যাচ্ছে জামিল।

অথচ ও যে ভালো ড্রাইভিং জানে, ঠিকমতো কাজ করতে পারলে অভাব নামক কোনো শব্দ থাকতো না। অভিশপ্ত নেশার জগৎ এ প্রবেশ করে সবকিছু হারাতে বসেছে জামিল।

কম বয়সি স্ত্রী লায়লী স্বামীর এমন অবস্থায় কিছুই করতে বা বলতে পারছে না। একটু বুঝাতে গেলেই স্বামী তেড়ে আসে, স্ত্রীর গায়ে হাত তোলে। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।

জামিলের বাবা-মা’ও শঙ্কিত ছেলের এ অবস্থা দেখে। তারা জামিলকে স্বাভাবিক জীবন যাত্রায় চলতে বললে সে টাকা চেয়ে বসে। এই ব্যবসা ওই ব্যবসা করবে বলে।

বারকয়েক এভাবে দিয়েছেও বটে। কিন্তু ফলাফল শূন্য, সে টাকায় কয় দিন হারিয়ে গিয়ে নেশায় বুঁদ হয়ে থাকে। ফিরে এসে আবার টাকা চায়। তাই এখন বাবা টাকা দিকে অপারগতা প্রকাশ করলে নিজ পিতা-মাতার উপর চড়াও হতে থাকে। অথচ এই পিতা-মাতাই ছেলে ভালো ড্রাইভিং জানে বলে দুই বার লেগুনা কিনে দিয়েছিলো। আরেকবার পিক্যাপ, অথচ জামিল সবই বিক্রি করে দেয়।

আর তাই বাবা মা এখন আর কোনো টাকা দিতে চান না বলে জামিলের মেজাজ এবং আচরণ আগের তুলনায় আরো ভয়ংকর হয়ে উঠছে। স্ত্রী লাইলী বাধ্য হয়ে গার্মেন্টসের চাকরিতে ঢুকলো। এতেও শান্তি নেই। মাস শেষে যা উপার্জন করে তাও নিজের কাছে রাখতে পারে না। জামিল মারধোর করে তা নিয়ে যায়।

এদিকে মেয়েটা বড় হচ্ছে। আরেকটি সন্তান গর্ভে। কিন্তু জামিলের এখনো কোনো পরিবর্তন নেই।

সেদিন তো এক ভয়ঙ্কর কাণ্ড ঘটিয়ে দিলো। রাতে এসে বাবার কাছে জায়গাজমি সংক্রান্ত তর্ক-বির্তকের এক পর্যায় এসে, ঘরে থাকা ধারালো দা এনে বাবার গলায় ধরলো! একটুর জন্য কেটে যায়নি। মা এসে ফিরালো। এ অবস্থায় সবাই চলবে কি করে। কারোর জানা নেই। কিংবা এর শেষ কোথায়?

Facebook Comments