রঙের গল্প

বুদ্ধিতে রঙ লাগার পর দেখেছি
সকলেই বিভিন্ন রঙে রঙিন।
কেউ কেউ তার রঙে তুমি না সাজলে
একাট্টা বিরোধিতা করে তোমাকে
সময়ের গতি থেকে গলাধাক্কা দিয়ে
নির্ঘাত বের করে দেয়।
তাদের কলার চেপে বলো—
শালা রঙবাজ..

[দুই]

কখনো রাস্তায়, কিংবা কোনো ফুটোওয়ালা
গলির সমুখে,
দীর্ঘ চুল বিশিষ্ট রঙের ডিলারের সঙ্গে
একজন স্মার্ট ম্যানেজারও দেখা যায়,
তিনি একজন সাচ্চা রঙবেপারী
তার কালেকশন নিয়ে পথে পথে
পথিকের লোভাতুর নজর কাড়েন!
তাদের কানে চুপি চুপি বলা দরকার—
হ্যালো রঙবাজ!

[তিন]

কখনো বুদ্ধিবিকৃত পৌঢ় রঙবাজদের দেখে
খানিক আক্ষেপ জাগে।
তিনি নিজে যে পঁচা রঙ লাগিয়েছেন
তার অধিনস্তদের সেসব দুর্গন্ধ রঙ লাগাতে
নির্মম গলা চেপে ধরেন।
এদের কারণে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
মারা যাচ্ছে নিষ্পাপ ফুল-কলি।
আসলে এরাও একেকজন
মস্তিষ্কবিকৃত রঙবাজের ডিলার।
তাদের ম্যানেজাররা রঙের যে ডিব্বা
ধরিয়ে দিয়েছেন
সে ডিব্বা দিয়েই
পান্তাভাত কী বিরিয়ানিতে
তা দিয়েই উপস্থাপন করেন।
এরা নিকৃষ্ট রঙবাজ।

[চার]

এদের ঠিক অভিধানিক অর্থে রঙবাজ
বলা যায় না।
পৃথিবীর সকল পবিত্র রঙ তারা
অতি সম্ভ্রমে সংগ্রহ করেন।
এবং জীবনের প্রয়োজনে অকাতরে সেগুলো
নিষ্পাপ বিলিয়ে থাকেন।
প্রয়োজনে নিজের ঘরের রঙ
ঘষে তুলে হলেও
এরা জীবনের মান রক্ষা করেন।
এরা বিশুদ্ধ রঙের অপরূপ স্রষ্টা।
এরা তেলামাথায় কখনো
রঙ মারে না।
কেউ না চাইলে
রঙের পঁচা ডিব্বা চাপিয়ে দেয় না।
কেউ রঙ না নিলে
গলাধাক্কা দিয়ে তাকে
অপমান করে না।
এবং রাস্তাঘাটে কিংবা
হাটেবাজারে রঙের ডিব্বাসহ
নির্লজ্জ ঘুরে বেড়ায় না।
এরা রঙের প্রকৃত উৎস।
সুন্দরের প্রতীক।
জীবনের ধার্মিক।

Facebook Comments