যখন মলিন ধূসর পথটি আমার

মনে পড়লো আমার কোনো ঠিকানা নেই। মনে পড়লো মানুষের কোনো ঠিকানা থাকতে নেই। মানুষ তো আল মাহমুদের ‘যেভাবে বেড়ে উঠি’র শেষ প্যারাটিই মূলত, অনন্ত কালের ট্রেনে চড়ে যে পাড়ি দেয় পার্থিব সমগ্র কৃত্রিম সম্পর্কের রেখা। তার পর ছাপিয়ে ওঠে নদীর দু’কুল, সে বাড়ি ফেরে প্রার্থিত শস্য নিয়ে।

যে বুঝে ফেলতে পারেন বস্তুবাদী দুনিয়ায় স্বার্থের উর্ধ্বে কিছু নাই, যে বুঝে ফেলতে পারেন এইখানে ভান ধরতে পারাই মূলত বিশালত্বের রহস্য, তার আসলে এইখানে বিক্ষত হবার রাস্তাটিই বহমান হয়ে গেলো। তার জন্যে অপেক্ষা করছে হয়তো পথবিভ্রান্তি কিংবা ত্যাগ, অথবা অনন্ত দহন।

আমার সামনের পথটি কবি আল মাহমুদের কৈশোরের বেদনাদগ্ধ পথ। আমি এইখানে দাঁড়িয়ে। জগতের পরীক্ষা-হলের সামনে আমি বুক ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। অসংখ্য চেহারার দাম্ভিকতা ম্লান হচ্ছে আমার স্বপ্নসুন্দরের অপ্রতিরোধ্য পথটির সামনে, আমি কল্পনা করছি।

আমার সামনে খণ্ড খণ্ড কুয়াশার আইস। আমি বেঁচে আছি শিল্পের স্বপ্ন আর শিক্ষার দ্যুতির অনুভব পান করে। আমি মরে যাবো না, কারণ আমার আত্মায় তৃষ্ণা। আমি মরতে মরতে মরণের সব ভঙ্গিমা পরাস্ত করবো। আমার কাছে মানুষ পাবে একখণ্ড তাদের প্রত্যাশিত অভিমান।

হে কুয়াশার পথ, বড় বেশি দানশীল হয়ে আসো, আমি তোমাকে বরণ করতে দাঁড়িয়ে আছি দুটো দূরদৃষ্টির চোখ আর ষোড়শ চুলের বিভ্রান্তি নিয়ে।

Facebook Comments