ব্যক্তিগত জীবনের টুকরো আলাপ ও অন্যান্য ভাবনা

[৩১শে ডিসেম্বর ২০১৬। বৃষ্টিভেজা সকাল। হঠাৎ একপশলা বৃষ্টি পুরো আকাশকে রূপার মতো ঝকঝক করে দিয়েছে। এই দিন প্রথিতযশা আলেম মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী অবকাশযাপনে এসেছিলেন তার নানাবাড়ি ময়মনসিংহের গলগণ্ডাতে। তিনি তখন প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন নানাবাড়ির সামনের দীঘল পুকুরটিতে সাঁতার কাটবেন। ঠিক সেই মুহূর্তে শিকড় সাহিত্য মাহফিলের প্রতিষ্ঠাতা উস্তায লাবীব আব্দুল্লাহর সাথে আমরা তার সামনে গিয়ে হাজির হই। তিনি আমাদের দেখে খুবই খুশি হলেন। গোছলের প্রস্তুতি বাদ দিয়ে আমাদের সামনে তার জীবনের গল্পের ঝুড়ির বাঁধনটা খুলে দিলেন।
প্রথমে কিছুক্ষণ আলোচনা বৈঠকি মেজাজে চলতে থাকে। এরপর তা রূপ নেয় আনুষ্ঠানিকতায়। উস্তায লাবীব আব্দুল্লাহ একের পর এক প্রশ্ন করতে থাকেন আর তিনি উত্তর দিতেই থাকেন।
এভাবে প্রায় আড়াই ঘণ্টায় সাক্ষাৎকারটি শেষ হয়। পুরো সাক্ষাৎকারটি ভিডিও করেছিলেন তার মামাতো ভাই মাও. সাকিব মুস্তানসির
এটি মূলত একটি জীবনভিত্তিক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকার। সাক্ষাৎকারটিতে তার ব্যক্তিগত জীবনযাপন নিয়েই আলোচনা করার চেষ্টা করা হয়েছে। এরপর সমাজ, রাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্যে ইসলাম, বাংলাদেশে ইসলামী রাজনীতির ভবিষ্যত ইত্যাদি বিষয়েও অনেক আলোচনা চলে এসেছে। যা থেকে একজন অনুসন্ধানী পাঠক খুবই উপকৃত হবে আশা করি।

অনুলিখক, মুজীব রাহমান]

লাবীব আবদুল্লাহ: আপনি তো সৈয়দ আবুল হাসান আলী নদভীর সান্যিধ্য পেয়েছেন। আজকের এই দিনে ১৯৯৯ এর ৩১ শে ডিসেম্বর উনার ইন্তেকাল হয়। উনার সাথে আপনার শুরুর দিকে কী স্মৃতি ছিল?
মাওলানা নদভী: ১৯৯৯ সালের ৩১ শে ডিসেম্বর শুক্রবার আমাদের চলমান সময় ও বর্তমান পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ইসলামি চিন্তাবিদ ও সফল ইসলাম প্রচারক আল্লামা সায়্যিদ আবুল হাসান আলী নদভী ইন্তেকাল করেন। তিনি আমার প্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন, পাশাপাশী আমার শিক্ষক ছিলেন। আজ থেকে প্রায় ত্রিশ-বত্রিশ বছর পূর্বে উনার সান্যিধ্যে তিন বছর ছিলাম। উনাকে কাছে পাওয়া এবং উনাকে ধারণ ও অধ্যয়ন আমি আমার সাধ্যমতো ভালোভাবেই করতে পেরেছি আলহামদুলিল্লাহ। তার মৃত্যুর তারিখটি কাকতালীয়ভাবে আজকে দিনের সাথে মিলে গেছে। তার সাথে আমার খণ্ড খণ্ড অনেক স্মৃতি আছে। এরমধ্যে প্রথম স্মৃতি যেটা হলো—উনি যখন বাংলাদেশে প্রথমবার আসেন ১৯৮৪ সালের মার্চ মাসে, তখন এদেশে উনাকে বরণ করার জন্য আগে থেকে যারা যোগাযোগ করতেন, চিঠিপত্র দিতেন, উনাকে সংবর্ধনার জন্য যে কমিটি হয়েছিল, সবকিছুতেই আমি যুক্ত ছিলাম একজন ছাত্র হিসেবে, একজন তরুণ হিসেবে। এরপর যখন ঢাকায় আসেন তখন প্রথম অভ্যর্থনাটা ঘটনাক্রমে আমার দ্বারা হয়েছিল। সংবর্ধনার ঘটনাটি একটি স্বরণীয় ঘটনা। যেদিন তার আসার কথা ছিল সেদিন ঢাকার উলামায়ে কেরাম এয়ারপোর্টে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেদিন তার ফ্লাইট মিস হয়, সেদিন তিনি আসেননি। এরপর তিনি কখন আসবেন জানা ছিল না। যোগাযোগটাও এমন ছিল না যে জানা যাবে তিনি কখন আসবেন। তখন আমি একা সারারাত এয়ারপোর্টে অপেক্ষা করছিলাম উনার জন্য। ওটা আমার ব্যক্তিগত আগ্রহ ছিল। এর পরদিন ফজরের পর তিনি অপ্রত্যাশিত ও অনির্ধারিতভাবে একটা ফ্লাইটে চলে আসেন। এসময় প্রথম সাক্ষাৎ আমার সাথে হয়। প্রথম দোয়াটা আমি লাভ করি। যদিও তখনই দুই-তিনজন এসেছিলেন। মাওলানা মুহিউদ্দীন খান সাহেব, মাওলানা সুলতান যওক সাহেব ও মাওলানা নুরুল আমীন সাহেব। এরপর তো উনার ওখানে থাকা, লেখাপড়া; তাই আরো বহু স্মৃতি রয়েছে উনার সাথে।

লাবীব আবদুল্লাহ: আমরা যেখানে বসে আছি, ঐতিহাসিক মুন্সিবাড়ি মসজিদ গলগণ্ডা। এর সাথে আপনার সম্পর্ক ও স্মৃতির ব্যাপারে জানতে চাই।
মাওলানা নদভী: এটা হলো আমার মাতুতালয়। ময়মনসিংহের পথিকৃত আলেমে দীন মাওলানা আশরাফ আলী রহ.। যিনি জামিয়া ইসলামিয়া চরপাড়া ময়মনসিংহের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। বাংলাদেশ কৃষি ভার্সিটির দীর্ঘদিন পেশ ইমাম ও খতীব ছিলেন। কৃষি ভার্সিটি হওয়ার পেছনেও উনার অনেক অবদান ছিল। যখন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খান কৃষি ভার্সিটির জন্য জায়গা নির্বাচন করেন, তখন আমার নানা আত্মীয়তার সুত্রে তার সাথে ঘনিষ্ঠ ছিলেন। এটি ময়মনসিংহেই হোক এজন্য তিনি খুব চেষ্টা করেছিলেন। তিনি জাফর আহমাদ ওসমানীর খলিফাও ছিলেন। এই মুন্সিবাড়ির ইতিহাসও প্রায় ৫০০ বছর আগের। ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্রের তীরে যে ঐতিহ্যবাহী কিছু পরিবার, মধ্যপ্রাচ্য থেকে যারা ইসলাম প্রচারের জন্য এসেছিলেন তাদের অন্যতম একজন ছিলেন শায়েখ আল কাদের। তাদের অধস্তন পুরুষ হলেন আমার নানা। এই বাড়ির ঐতিহ্য পুরো ময়মনসিংহে প্রসিদ্ধ। আমার নানা বড় কাটারা মাদরাসায় লেখাপড়া করেছেন। তিনি শাইখুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক রহ. এর সহপাঠি ছিলেন। নানার প্রধান উস্তাদ ছিলেন জাফর আহমাদ উসমানী রহ.। মাওলানা জাফর আহমাদ উসমানী একসময় ময়মনে আসেন। তখন আমার মা সদ্যজাত শিশু। আমার নানা আম্মাকে তার কোলে দিয়ে বললেন, আমার এই মেয়েটির একটি নাম রেখে দিন। তখন তিনি আমার আম্মার নাম রেখে দিলেন মুর্শিদা আমিনা। এই বাড়িতে আমি মুক্তিযুদ্ধের পর এক-দুই বছর ছিলাম। তখন আমি শিশু। আমার শিক্ষাজীবনের হাতেখড়ি অ আ এ বাড়িতেই শুরু হয়। এই মুন্সিবাড়ির মসজিদেই আলিফ বা তা ছা’র সবক শুরু করি। গলগণ্ডা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণি এক বছর পড়েছি। আমার যে লেখালেখির চিন্তাভাবনা, এগুলোর সূচনা এই এলাকার সাথে। মসজিদ, পুকুর, রেললাইন, সামান্য দূরে যে ব্রহ্মপুত্র নদ, এগুলোর সাথে আমার গভীর সম্পর্ক। আমার ব্যক্তিত্ব মানসগঠনে এই মুন্সিবাড়ি ও ময়মনসিংহ শহরের বিশেষ অবদান রয়েছে।

লাবীব আবদুল্লাহ: আবুল হাসান আলী নদভী বাংলাদেশে আসার পর কিশোরগঞ্জে জামিয়া এমদাদিয়া যাওয়ার পর সেখানে আপনি মানপত্র পড়েছিলেন আমরা জানি। সেই মানপত্র পাঠ ও আবুল হাসান আলী নদভীর বিশেষ নজর ছিল আপনার প্রতি সে সম্পর্কে কিছু জানতে চাই।
মাওলানা নদভী: আমি তখন জামিয়া থেকে দাওরা শেষ করে বাইরে লেখাপড়া করার জন্য চেষ্টা-তদবির করছিলাম। তখন এক মাস আমি পটিয়া মাদরাসায় যওক সাহেবের কাছে ছিলাম আরবী শেখার জন্য। আরবীতে মাসখানেক পরিশ্রম করার পর শেখা এবং আরবীর ব্যাপারে আমার বিশেষ একটা অবস্থা তৈরি হয়। এরপর কিশোরগঞ্জে যখন নদভী আসেন তখন মাদরাসায় বসেই পরামর্শ হয় এটা কে লিখবে। তখন এটার দায়িত্ব দেওয়া হয় আমাকে। আমি ঐ সময় একটা মানপত্র লিখেছিলাম। যেটা পাঠ করেছিলেন জামিয়ার প্রিন্সিপ্যাল আমার সম্মানিত উস্তাদ মাওলানা আজহার আলী আনোয়ার শাহ সাহেব রহ.। এটা আবার পরদিন আল্লামা নদভী সকালবেলা জানতে চাইলেন এটা কে লিখেছে, আমার সঙ্গে দেখা করেন। ঐ মানপত্রের নিচে আমার নাম লেখা ছিল, লেখক হিসেবে। এরপর আমাকে তার সাথে সাক্ষাৎ করানো হলো। তখন সেখানে মুহিউদ্দীন খান সাহেবও বসা ছিলেন। তিনি বললেন, এই ছেলে এটা লিখেছেন। এরপর নদভী সাহেব আমার জন্য খুব দোয়া করলেন এবং বললেন মানপত্রটা আমাকে দিয়ে দিন। এরপর আমাকে বললেন, ‘আপ কো তো নদওয়া মে আনা চাহি হে।’ উনি তো ছোটদেরকেও আপনি করে বলতেন। আমাকে বললেন নদওয়াতে লেখাপড়া করা উচিত তোমার। তখনই আমি নদওয়া যাওয়ার জন্য খুব আগ্রহী হই।

লাবীব আবদুল্লাহ: আমাদের অনেক আগ্রহ থাকে আল আযহারে যাবো, মদিনা ভার্সিটিতে যাবো। দেওবন্দ যাবো। আপনি নদওয়াতে লেখাপড়া কেন বেছে নিলেন?
মাওলানা নদভী: এটা আল্লামা নদভীর ব্যক্তিত্বের কারণে। কারণ, আজহারে যাওয়ার যোগ্যতা তখন আমার ছিল। মদিনা ভার্সিটিতে যাওয়ার কাগজপত্রও প্রায় রেডি ছিল। দেওবন্দ যাওয়াটাও আমার জন্য সহজ ছিল। এরপর নদওয়াকে বেছে নেওয়ার কারণ হলো আল্লামা নদভীর সান্নিধ্য পাওয়া। তার সান্নিধ্য পাওয়ার পর আমার আর কিছু অপূর্ণ ছিল না।

লাবীব আবদুল্লাহ: রাবে হাসান নদভী, সালমান নদভী উনাদের কাছ থেকে কি সরাসরি পাঠ নিয়েছেন কিনা?
মাওলানা নদভী: সালমান নদভীর কছে পড়া হয়নি। তখন তিনি তরুণ শিক্ষক ছিলেন। রাবে হাসান নদভীর কাছে আরবী সাহিত্য ও সমালোচনা পড়েছি। অদেহ হাসান নদভীর কছে ইসলামী সাংস্কৃতি, আরবী অনুশীলন, মেডিয়া ইত্যাদি বিষয়ে ক্লাসেও পড়েছি। ব্যক্তিগতভাবেও পড়েছি।

লাবীব আবদুল্লাহ: আপনাদের ভাইদের শিক্ষার ব্যাপারে আপনার আব্বার দৃষ্টিভঙ্গি কী ছিল?
মাওলানা নদভী: তিনি ব্যক্তিগতভাবে খুব বড় একজন দার্শনিক ও চিন্তাবিদ লোক ছিলেন। বড় আলেম ছিলেন। তিনি দেশ জাতি উম্মাহ সম্পর্কে খুব ফিকির করতেন। আলেম-উলামার ভবিষ্যত, তাদের বিকাশ, নিরাপত্তা, প্রতিষ্ঠা ও তাদের পূর্ণতার ব্যাপারে তার খুব চিন্তা ও বড়দের একটা রোডম্যাপ ছিল। সেজন্যই উনি নেতা ছিলেন। যদিও কিশোরগঞ্জে থাকতেন কিন্তু তিনি জাতীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি কওমি অঙ্গনের লোক। সকল অঙ্গনের মানুষকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার মতো ভয়েস উনার ছিল এবং তিনি তার কাজে সফল ছিলেন। সমাজের মানুষের জন্য কাজ করতেন। সমাজে জনপ্রিয় ছিলেন। তার জীবনে ৫০ বছর তিনি কিশোরগঞ্জের সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। এবং এখনও যদি উনার নামটা দাঁড় করানো হয় ভোটে তাহলে অন্যান্য দলের চেয়ে উনি বেশি ভোট পাবেন। উনাকে নমিনিশন দেওয়ার পরই দল জিতেছিল। উনাকে নমিনিশন না দেওয়ার কারণে দল ৩০ বছর যাবত পরাজিত। উনাকে ছাড়া সেখানে একটা মেরুকরণ হবে না রাজনীতির। উনি কী ছিলেন, কী ভাবতেন, সেটার বাস্তব দৃষ্টান্ত হলাম আমরা ৫ ভাই। আমরা যা, তিনিও তাই ছিলেন। আমরা মনে করি, উনার চিন্তা ও স্বপ্নের ফসল হলাম আমরা। বিশেষভাবে উনি আমাদেরকে গাইড দিয়েছিলেন তা জানি না তবে তিনি সৎ ছিলেন, নির্ভীক ছিলেন, মুত্তাকী ছিলেন। একজন আলেমে দীন বা আল্লাহওয়ালা হিসেবে ভেতর-বাইরে যতটুকু সচ্ছ থাকা দরকার ততটুকুই স্বচ্ছ উনি ছিলেন। এর ফসল হিসেবেই আমরা মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পাচ্ছি এবং দীনের খেদমত করে যেতে পারছি। আমি মনে করি, আমার আব্বার ঈমান ও তাকওয়ার কারণে আমাদের আজ এ অবস্থান।

লাবীব আবদুল্লাহ: নদওয়া থেকে দেশে আসার পর কর্মজীবন কিভাবে শুরু হয়?
মাওলানা নদভী: মানুষের নেচার হলো সে বিশেষভাবে একটি কাজই ভালোভাবে করতে পারে। ছোট থেকেই আমার একটা লোভ ছিল আমি সব লাইনেই কাজ করবো। একটি সাধারণ কথা আছে যে সব কিছু চায় সে কিছুই পায় না, এটা সাধারণ নিয়ম। আমি যা যা করতে চেয়েছি সবই ভালোভাবে করতে পেরেছি। সাধারণত যে যেটা করে তাদের থেকে ভালোই করেছি। এজন্য বিশেষভাবে আমি কী করলাম, সেটা চিন্তা করি না। শুরুতে একটা জিনিস ভাবতাম যে, আমার মাঝে যেহেতু সাহিত্যের একটা প্রবণতা আছে, ভাষার সাথে প্রেম আছে; আমি কথাও বলতে পারি, ভাবতেও পারি, লিখতে পারি। এগুলোর জন্যই আমি মিডিয়াকে বেছে নিয়েছিলাম। মিডিয়ায় আমাদের একটা অভাববোধ ছিল। আমাদের লাইনের লোক মিডিয়াতে কম। তাই আমি মিডিয়ায় আসি। এর পাশাপাশি মুসলমানদের বৃহত্তর মিডিয়া জুমার মিম্বারে বয়ান করতাম। ১৫ বছর জুমার নামাজের ইমামতি করেছি। এখন ব্যস্তার কারণে জুমার ইমামতি করতে পারি না। বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলে বয়ান করা—আমি তো এটার লোক না। এরপরও মানুষ দাওয়াত দেয়, আমিও বয়ান করি। অনেকের কাছে আমি নন্দিত বক্তা। আর শুরুর দিকে মূলত আমি শিক্ষকই ছিলাম। দারুল মাআরিফে ৫ বছর। শিক্ষাসচিবও ছিলাম সেখানে। ঐ মাদরাসার সূচনালগ্নে যে প্রস্তুতিপর্ব, সেখানে যওক সাহেবের সঙ্গে আমরা সহকারী হিসেবে ছিলাম। পাশাপাশি মিডিয়ায় রিপোর্ট লেখা… প্রবন্ধ ও দেশের প্রায় সবগুলো মাসিক পত্রিকায় নিয়মিত লেখা শুরু করি। এরপর ধীরে ধীরে বই লেখাও শুরু করি।

লাবীব আবদুল্লাহ: আপনি তো দীর্ঘদিন যাবত মিডিয়ার বিভিন্ন শাখায় কাজ করছেন। আমাদের তরুণরা অনেকেই এখন মিডিয়ায় কাজ করতে চান। তারা কীভাবে শুরু করবে?
মাওলানা নদভী: তরুণদের পধানত ৩টি বিষয় লাগবে। ১. প্রবল ইচ্ছাশক্তি। ২. যোগ্যতা অর্জন, এর কোনো বিকল্প নেই। নিজের লেখা ও লিখন, কথা ও কথন শুদ্ধ করতে হবে। বিচিত্র পাঠ থাকতে হবে। প্রস্তুতিটা যদি শক্ত হয় এরপর হলো ৩. কারিগরি দক্ষতা। এটা হলো আচার আচরণ, মানুষের সাথে সম্পর্ক রাখা, নিজেকে উপস্থাপন করা।

লাবীব আবদুল্লাহ: আলেমদের মাঝে ও জেনারেল শিক্ষিতদের মাঝে একধরনের দুরত্ব লক্ষ্য করা যায়। এর কারণগুলো কী কী? ও কীভাবে কাছাকাছি করা যায়?
মাওলানা নদভী: আপনার প্রশ্নের মাঝেই একটা জবাব আছে—কাছে আসা। এক হয়ে যেতে হবে এটা বলেননি আপনি। এক হওয়া তো সম্ভবও না। আমাদের শিক্ষিত লোকজন অনেকে শুধু ওয়ান সাইডেই এডুকেটেড। তারা শিক্ষিত বটে কিন্তু ইসলাম সম্পর্কে তেমন বেশি জানে না। আর ইসলামী ব্যক্তি যারা তারাও কিন্তু একমুখি শিক্ষিত। তারা অধিকাংশই মানুষের ও সমাজের সমকালীন মানুষগুলোর সাইকোলজি সম্পর্কে জানে না। এই অজানাটাই হলো গেভ। দুটি শ্রেণিই ঠিক; মিস্টারও থাকতে হবে, মোল্লারাও থাকতে হবে। আমরা যদি নিজেদের ঈমান, চেতনাবোধ দেশের পরিচয়ে আমাদের ধর্ম নিয়ে চিন্তা করি, দেখা যাবে মোল্লা মিস্টার সবাই একই পথের পথিক। যারা ইসলামবিরোধী, তাদের সাথে আমাদের হবে না। যারা মানবতাবিরোধী, এদের সাথেও আমাদের হবে না। যারা ইসলাম চান, দেশের উন্নয়ন চান, নিজের চেতনাকে বিকশিত করতে চান তারা সকলে তো একই। আলেমদের সাথে তাদের যে দূরত্ব তার কারণ হলো ভাষার প্রয়োগ। তারা তাদের পরিভাষা অনুযায়ী কথা বলে আর আলেমরা নিজেদের পরিভাষা অনুযায়ী কথা বলে। এতে দেখা যায়, তারা যা চায় এবং আলেমরা যা চায় তা একই, কিন্তু পরিভাষার ভিন্নতার কারণে ভিন্নতা বুঝা যায়। আমার মনে হয় এ গেভটা পূরণ করতে পারলেই এক হওয়া অনেকটা সম্ভব। আমি যেহেতু উভয়ধারায় শিক্ষিত, উভয়ধারার মানুষের সাথে সমানভাবে মিশি তাই এ বিষয়টা ভলোভাবেই উপলব্ধি করতে পারি।

লাবীব আবদুল্লাহ: আলেমদের ব্যাপারে অভিযোগ করা হয় যে তাদের মাঝে কোন দেশপ্রেম নেই। রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের মানুষের প্রতি ভালোভাসা নেই। আরো নানা বিষয়ে অভিযোগ করা হয়। আসলেই বাংলাদেশের আলেমদের মাঝে দেশপ্রেম নেই?
মাওলানা নদভী: এই প্রশ্নটা আসলে অনেক জায়গা জুড়ে চলে গেছে। বাংলাদেশের আলেমরা সমাজ সম্পর্কে জানে না। সচেতন না। একথাটা ঠিক নয়। বাংলাদেশের সমাজে তো আলেমদের চিন্তা লালিত। দেশের বা সমাজ এটাটো আলেমরাই লালন করছে। আমি তো নিজে আলেম, মাঠে ময়দানে মানুষের সাথে কাজ করি। মিশি। গত দুই মাসে অন্তত ৭০টা মিটিংয়ে অংশ নিয়েছি। এবারেজে প্রতিটিতে ২০,০০০ করে মানুষ দিন। এদের সাথে আমার কথাবার্তা চলছে। তারা কীভাবে খুশি হয়, কীভাবে শ্লোগান দেয়, না খেয়ে কেন বসে থাকে রাস্তায়, কেন তারা শীতের রাতে প্যান্ডেলে কাঁপতে থাকে এটা আমি জানি। আর আলেম উলামা জনগণকে না জানালে কে জানাবে? বাংলাদেশে চার লাখ মসজিদ । প্রতি শুক্রবার জনগণ তো আলেম উলামা থেকেই দুই আড়াই ঘন্টা কথা শুনে। তাহলে আলেমরা সমাজ চিনেন না একথাটা ভুল। আরেকটা হলো দেশপ্রেম। দেশপ্রেমের অর্থ কী? দেশপ্রেমের সৃষ্টি কোথা থেকে? ইসলাম থেকে দেশপ্রেমের সৃষ্টি। উলামায়ে কেরামের থেকে দেশপ্রেমিক এ দেশে আর কে আছে? বাংলাদেশের আলেম উলামা ইমাম মুয়াজ্জিন তারা তো কোনোদিন দেশ থেকে যাওয়ার পথ পাবে না যদি এ দেশে সামরিক হামলা হয়। মানে আর্মিরা ক্ষমতা দখল করে রাজনীতিবিদদের যদি দুর্নীতির শাস্তি দেয় তাহলে একজন আলেমও শাস্তিতে পরবেন না। আলেমদের তো কোনো সম্পদ নেই। বিদেশে কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই। তাদের পকেটে বিদেশ যাওয়ার কোনো টিকেট থাকে না। আর যারা রাজনীতি করেন এই দলের সেই দলের, তারা কিন্তু পালাবে। এখানে যদি বিত্তের হিসাব নেওয়া হয় তাহলে বুদ্ধিজীবিরা ধরা পড়বে। যদি বিদেশী এজেন্সির হিসেব নেওয়া হয় তাহলে বুদ্ধিজীবি, সাংবাদিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ধরা পড়বে। কোনো আলেম ধরা পড়বে না। কাজেই বাংলাদেশের ৭১ সনের স্বাধীনতার যুদ্ধ সম্পূর্ণ ৬ কোটি মানুষের উপর দিয়ে গেছে। যে দেড় কোটি মানুষ ইন্ডিয়া চলে গিয়েছিলেন তারা সবচেয়ে বেশি কষ্ট করেছেন। তারা বিদেশে ছিলেন। কষ্ট করে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। দেশে এসেছেন। যুদ্ধ করেছেন। কিন্তু ৬ কোটি মানুষ কী করেছে? তারাই কিন্তু ১ লক্ষ আর্মির অত্যাচারের মধ্যে ছিল। আর ৬ কোটি মানুষের মধ্যে অল্পসংখ্যক লোক যারা পাকিস্তানপন্থি ছিলেন বা স্বাধীনতা চাননি। এদেরকে বাদ দিলে বাকি বাংলাদেশের ৬৮ হাজার গ্রাম পাহারা দিয়েছেন কারা? মসজিদের ইমামরা, মুয়াজ্জিনরা। মসজিদ, মাদরাসা ও মক্তবের উস্তাদরা। তারা কিন্তু জনগনকে রেখে কলকাতা চলে যাননি। ৯ মাসের সমস্ত জুলুম অত্যাচার কষ্ট তাদের উপর দিয়ে গেছে। তারা কোনো মানুষের ক্ষতি করতে জানেন না। আগেও না। এখনও না। আজকেও না। তারা জনগণকে নিয়ে ছিলেন। তাদের পাশে ছিলেন। উর্দু ভাষা জানার কারণে পাক বাহিনীকে থামিয়ে দেন। হিন্দুদেরকে রক্ষা করেছেন। আমার আব্বার কথাই বলি। কিশোরগঞ্জে একবার ৮০ জনের হিন্দুকে পাক বাহিনী ধরে নিয়ে গেছে হত্যা করার জন্য। তিনি একজন আলেম এবং রাজনীতিক। তিনি কিন্তু আওয়ামিলীগ করতেন না। বিরোধী দলে ছিলেন। যুক্তফ্রন্টের পরে তিনি আওয়ামিলীগ করতেন না। তখন তিনি দৌড়ে গেছেন। গিয়ে পাকবাহিনীর মেজরকে বললেন, এদরকে কেন ধরে নিয়ে এসেছ? মেজর বলল, এরা কাফের-মুশরেক। আব্বা বললেন, না না, এরা তো আমার তাফসিরের শ্রোতা। তারা বাস্তবে হিন্দু। তাই বলে তাদেরকে হত্যা করতে হবে কেন? এরপর মেজর বলল, এদের ছেড়ে দাও। উনি ৮০ হাজার হিন্দুকে কৌশলে পাকিস্তানি মেজর থেকে মুক্ত করলেন। একজন মুক্তিযোদ্ধা, একজন সেক্টর কমান্ডার। তাদের থেকে তার অবদান কোনো অংশে কম ছিল কি? এখনো কিশোরগঞ্জ গিয়ে দেখুন বড় বড় হিন্দু উকিল ব্যবসায়ী তারা বলবে আব্বার কথা, যে, উনি আমাদেরকে রক্ষা করেছিলেন। উনি জনপ্রতিনিধি ছিলেন এবং আওয়ামীলীগ, বিএনপির প্রার্থীদের থেকে বেশি ভোট পেতেন। কারণ হলো ধর্ম, দল, মত নির্বেশেষে সবাই তাকে শ্রদ্ধা করত। কাজেই আলেম উলামার দেশপ্রেম সম্পর্কে যারা কথা বলে তারা জানেই না দেশপ্রেম কাকে বলে! ১৯৫৭ সালে যখন এদেশ বৃটিশদের হাতে চলে যায় এরপর ১৯০ বৎসর স্বাধীনতা সংগ্রাম কারা করলেন? ১৮৫৭ সালে যে ৫০ হাজার আলেম জীবন দিলেন তারা কী কারণে জীবন দিলেন? তারা এদেশের জন্য জীবন দেননি? ১৪ হাজার আলেমকে যে ফাঁসি দেওয়া হলো, কেন দেওয়া হয়েছিল? এদেশের কারণে। ঢাকা বংশালে যে হাজীকে হত্যা করা হলো, ঢাকা বাহাদুর শাহ পার্কে যে ফাঁসি দেওয়া হলো, এরা কি আলেম ছিলেন না? দেশপ্রেম কী? আজ দেশের উপর প্রশ্ন আসুক, দেশ আক্রান্ত হোক, সবার আগে এদেশের উলামায়ে কেরাম জনসাধারণকে সাথে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। আলেমদেরকে পজেটিভলি বনতে হবে। এদেশের পেছনে আমাদের কী অবদান? দেশের জন্য আমরা কী করেছি?

লাবীব আবদুল্লাহ: আমরা এদেশের মানুষ। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার মাঝে এত বিভাজন কেন? শিক্ষা নিয়ে আপনার ভাবনা কী?
মাওলানা নদভী: শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটির ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভুল হলো সরকারের। যারা গত ৪৫ বৎসর যাবত এ দেশ শাসন করে আসছেন তাদের কাছে এ বিষয়টা পরিষ্কার ছিল না যে, এদেশের মানুষের শিক্ষা কী হওয়া উচিত? এদেশের মানুষ বলতে আমরা কী বুঝবো? যেখানে ছয়জন হিন্দু আছেন, একজন খৃষ্টান, একজন বৌদ্ধ আর ৯৩ জন মুসলমান। তাহলে যেহেতু মিশ্র সমাজ, বিভিন্ন দল; তাই বলে কি এখানে ধর্ম শেখানো যাবে না? যেহেতু বিভিন্ন ধর্মের মানুষ এদেশে থাকে, ৯৩ জন মুসলমান হওয়ার কারণে জরুরি যে কোরআন পড়া, কোরআন বুঝা, ইসলামের মৌলিক হুকুম-আহকাম জানা। এগুলো থেকে কি তারা বঞ্চিত থাকবে? এ ধারণাটা কেন আসলো? যদি ৯৩ জন মুসলমানের উপযুক্ত শিক্ষা এখানে থাকে অন্য ধর্মের যারা তারা এগুলো পড়বেন। জেনারেলগুলো সবাই পড়বে। ধর্মীয় শিক্ষাটা যার যারটা আলাদা আলাদা পড়বে। তাহলে তো একমুখি হলেই চলে। এখন আপনি যদি বলেন, আমি একমুখি শিক্ষা করবো কিন্তু হিফজ বিভাগ থাকবে না, নামাজ শেখানো হবে না। ওয়ান থেকে এমএ পর্যন্ত পড়বে পড়বে কিন্তু সুরা ইখলাসটা সে জানবে না, সে জানাযা পড়তে পারবে না, সে ইমাম হতে পারবে না, কুরআনের অর্থ বুঝবে না, হাদিসের সাথে পরিচিত হবে না, তাহলে একমুখি শিক্ষা কীভাবে হয়? আপনি যদি বলেন, এখানে সব লোক আসবে, একধরনের খাবার আমরা দেব। গরু জবাই করবেন, এটা তো হিন্দু খেতে পারবে না। শুকর জবেহ করবেন, এটা তো আমরা খেতে পারবো না। তাহলে একরকম খানা কীভাবে হবে? যে মেহমানরা আসবে তাদের জন্য নিজস্ব রুচি অনুযায়ী ভালো ভালো খাবার দিতে হবে। এটাই নিয়ম। অথবা কোনো খাবার এমন রান্না করতে হবে যা সবাই খেতে পারে। আপনি যদি বলেন, হিন্দু-মুসলিম সবাইকে মাশকালাই ডাল দিয়ে খেতে দেবো, তাহলে মাশের ডাল খেতে আসছি আমরা। এখানে রুস্টের ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষাটাও এরকম। এ দেশের ৯৩ পার্সেন্ট মানুষ মুসলমান। একমুখি শিক্ষা যদি হয় তাহলে মুসলমানের পরিপূর্ণ শিক্ষাটা থাকতে হবে। যারা অমুসলিম তাদের এটা পড়তে হবে না। তারা আলাদাভাবে অন্যটা পড়বে। কিন্তু অংক তো সবাই পড়তে পারে। বিজ্ঞান সবাই পড়তে পারে। পরিবেশ সমাজ, ইংলিশ, বাংলা সবাই পড়তে পারে। তবে প্রত্যেকের ধর্মীয় শিক্ষাটা থাকতে হবে। যেহেতু ধর্মীয় শিক্ষা স্কুল কলেজে যথেষ্ট পরিমাণ নেই এজন্যই কিন্তু মাদরাসার প্রয়োজন? একমুখি শিক্ষাব্যবস্থা তখন সম্ভব যখন সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের উপযুক্ত শিক্ষাটা আসবে। আরব দেশগুলোতে একই শিক্ষা, ইউরোপের দেশগুলোতে একই শিক্ষা। কিন্তু ভারতে একমুখি শিক্ষা নেই। এখানে বহু জাতির মিশ্রণ রয়েছে। যেখানে সাধারণ শিক্ষা আছে। দেওবন্দ মাদরাসা আলাদা আছে। আলীগর আছে। হিন্দু ইউনিভার্সিটি আলাদা আছে। প্রত্যেক মানুষ তার প্রয়োজনীয় শিক্ষাটা সে আলাদা নিতে পারে। বেসিক শিক্ষাটা একরকম। আমাদের দেশে শিক্ষা একমুখি করার চিন্তা কেন আসছে? আমি তো জানি না। যদি একমুখির অর্থ এই হয় আমরা সবাইকে সেক্যুলার বানিয়ে ফেলবো, ধর্মীয় শিক্ষা কেউ পড়বে না তাহলে মুসলমানরা এটা মানবে না। ৯৩ ভাগ মানুষের শিক্ষাটা একটু চিন্তা করে করতে হবে। স্কুল কলেজে পড়ার পর যদি একটা মানুষ মুসলমান হয়ে যায়, পরহেযগার একজন ডাক্তার হয়, পরহেযগার ইঞ্জিনিয়ার হয় তাহলে তো কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যদি আমাদের দেশে এই শিক্ষায় শিক্ষিত হয় একজন হিন্দু ডাক্তার, একজন মুসলিম ডাক্তার, একজন বৌদ্ধ ডাক্তার। ডাক্তারী বিদ্যা তো কমন। এটাতে তো তেমন ধর্ম নেই কিন্তু তার আচরণটা তো থাকতে হবে। এই আচরণটা যদি স্কুল কলেজে ঢুকান তাহলে তো আর মাদরাসা শিক্ষার দরকার হয় না। স্পেশালাইজ কিছু মাদরাসা থাকবে আলেম হওয়ার জন্য। কিন্তু আমাদের সমস্যা এই যে, একটা ছেলে যদি ওয়ান থেকে এমএ পর্যন্ত পড়ে তাহলে পিতা-মাতার সাথে কেমন আচরণ হবে এটা সে জানবে না। ধর্মীয় জীবনটা তার সাথে একদম মিশবেই না। এজন্যই তার তখন আলাদাভাবে মক্তবে পড়তে হয়। আলাদাভাবে মাদরাসায় যেতে হয়। আলাদাভাবে নুরানী ট্রেনিং দিতে হয়। মসজিদে বসে আবার তাকে তালীম দিতে হয়। বুড়ো হয়ে গেলে তাবলিগে পাঠিয়ে তাকে ইসলাম শিখাতে হয় আমাদের। যদি এই শিক্ষার মাঝে সব দেন তাহলেই তো সব প্রতিষ্ঠান এক হয়ে যায়। কিন্তু সব বাদ দিয়ে এক করবেন কীভাবে? সবকিছুকে সংমিশ্রন করে এক করা যাবে। একমুখি শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটা দক্ষ শিক্ষা মন্ত্রণালয় দরকার। একজন জ্ঞানী সবদিক থেকে শিক্ষিত, জাতি ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানে এরকম একজন শিক্ষামন্ত্রী দরকার। আমাদের দেশে যারা মন্ত্রী হন, সরকারে যারা যান, বুদ্ধিজীবি যারা হন তারা তো একমুখি শিক্ষিত। ধর্ম সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা নেই।

লাবীব আবদুল্লাহ: সব সরকারই কওমী মাদরাসা সংস্কার করতে চান, উন্নত করতে চান, উনাদের অবস্থানে রাখতে চান, সনদের স্বীকৃতি দিতে চান। অভিযোগ করা হয় আলেমরা এসব অফার নিতে চান না। পিছিয়ে থাকতে চান। সন্দেহ সংশয় প্রকাশ করে। আপনি বিষয়টি কীভাবে দেখেন?
মাওলানা নদভী: একজন অযোগ্য অদক্ষ লোক যদি বলে যে, সে আপনার চোখ অপারেশন করবে বা আপনার হার্ট অপারেশন করবে, আপনি কী দেবেন তাকে তা করার জন্য? তো একজন নাস্তিক মন্ত্রী যদি বলে, আসো তোমাদের কওমী শিক্ষা আমি সংস্কার করে দেব। একটা গভমেন্ট, সে নিজে সেক্যুলার, তাদের দলের নিজস্ব কোনো আদর্শ নেই। তাদের কনসেপ্ট পরিষ্কার না। তারা যদি বলে আমরা তোমাদের কওমী শিক্ষাকে ঠিক করে দেব। আপনি কি দেবেন? ইসলামী শিক্ষাটা তো আমরা রক্ষা করি। গভমেন্ট আমাদের নিয়ে যা করবে সে ব্যাপারে আমরা সন্দিহান। নিরাপত্তা বোধ করি না। এজন্য আমরা যাই না। আলেমরা সহযোগিতা করে না একথাটা ঠিক নয়। আলেমদেরকে তাদের লাইনে রেখে তাদের থেকে সহযোগিতা নেওয়ার যোগ্যতা গভমেন্টের থাকতে হবে। গভমেন্টের মাঝে এমন কোনো লোক কি আছে যে আলেমদের ভাষা বুঝে? আলেমদের সাথে বসে আলাপ করবে এমন লোক কি গভমেন্টে আছে? এমন লোক যদি গভমেন্টে থাকতো তাহলে আলেমদের সাথে বসে আলাপ করতে পারতো। আলাপ করার জন্য তো একটা আলাদা যোগ্যতা লাগে।

লাবীব আবদুল্লাহ: আজ সবার মুখে সমাজ পরিবর্তনের শ্লোগান। একুশ শতকে সবাই বদলে যাচ্ছে। আমাদের মাঝে কালচারাল আগ্রাসন ব্যাপকভাবে বিস্তার হচ্ছে। আপনি একজন বহুমাত্রিক প্রতিভার মানুষ হয়ে বর্তমান সমাজের উন্নতির জন্য কোনটা বেশি প্রয়োজন মনে করেন? বক্তৃতা, লেখালেখি, দরস তাদরিস?
মাওলানা নদভী: সামাজিক যে আগ্রাসন, আমি অন্যান্য আগ্রাসন মোকাবিলার জন্য বক্তৃতা, লেখালেখি, দরস তাদরিস, ওয়াজ মাহফিল, ইসলামি মিডিয়া ইত্যাদি সবগুলোর গুরুত্ব এক সমান। সবগুলোই প্রায় সমান গুরুত্বপূর্ণ।

লাবীব আবদুল্লাহ: মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশের মানুষ এখন ইসলামের দিকে ঝুঁকছে, কিন্তু একদল কুচক্রি মহল ইসলামকে সন্ত্রাসবাদ জঙ্গিবাদ বলে আখ্যায়িত করছে। এমতাবস্থায় এ থেকে উত্তরণের পথ কী?
মাওলানা নদভী: উত্তরণের পথ হলো নিজেদের কাজ করে যাওয়া। ইসলামপন্থিরা তাদের সঠিক কাজগুলো করে যাবে। এটাই উত্তরণের পথ। ইসলাম কোন দেশে জঙ্গিবাদ? পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মুসলিম হলো সৌদি আরবে। সেখানে কি জঙ্গিবাদ আছে? পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ হলো বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ যে শান্তিতে আছে, এখানে কী জঙ্গীবাদ আছে? মুসলিম দেশগুলোতে জঙ্গিবাদ নাকি আমেরিকা যে দেশগুলোতে হামলা করেছে সেখানে জঙ্গিবাদ? ইরাক যে তছনছ করে দিলো আমেরিকা, আফগানিস্তানে যে ৩০ বৎসর যাবত বোমা ফেলছে, সিরিয়ার মধ্যে যুদ্ধটা কে করছে? লিবিয়ায় সরকারকে উৎখাত করে অশান্তিটা কে করল? পৃথিবীতে গত ২০ বৎসরে ১ কোটির চেয়েও বেশি মুসলমান হত্যা করা হয়েছে, এটা কি শান্তি? এটা প্রেম? ভালোবাসা? জঙ্গিবাদ কোথায়? জঙ্গিবাদ কাদের তৈরি? যে দেশগুলোতে হামলা করল সে দেশের মানুষ যদি মুক্তিযুদ্ধ করে, তাদের দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়ে, তাদের জীবন নষ্ট করার প্রতিশোধ নেয়, সেটা কীভাবে জঙ্গিবাদ? আমাদের দেশে স্বাধীনতা-যুদ্ধ হয়নি? পৃথিবীর দেশে দেশে স্বাধীনতা-যুদ্ধ হয়নি? যে মুসলিম দেশে আপনারা হামলা করবেন সেখানে যদি স্বাধীনতার যুদ্ধ হয় সেটা কেন জঙ্গিবাদ? বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ কোথায়? বাংলাদেশে সরকারের লোকজন, সমস্ত জনগণ তো বন্দুক ছাড়া চলাফেরা করে। আমি তো রাত ১২টা ১টা ২টায় টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত একাই চলাফেরা করি। কোথাও কেউ তো আমার উপর বোমা মারে না। এ দেশে জঙ্গিবাদ নেই। ছোট আকারে যেটা আছে সেটাকে সরকার, জনগণ, পুলিশ সবাই মিলে দমন করছি, করব। কিন্তু জঙ্গীবাদ, ইসলামে জঙ্গিবাদ আছে এটা ভুল কথা। ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়াসহ পৃথিবীর সমস্ত মানুষ আধুনিক যুগে যারা শিক্ষিত তারা কিন্তু এত বোকা না। আপনি একটা দেশের মানুষকে মেরে ফেলবেন আর বলবেন অমুক জঙ্গি, আপনি ভালো। এটা যদি সত্য হতো এতদিনে ইসলাম রুখে যেত। এখন ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রোলিয়াতে ইসলামের ছায়াতলে মানুষ যেভাবে আসা শুরু করছে, ইসলাম নিয়ে তরুণদের মাঝে যে আগ্রহ তৈরি হচ্ছে, ইসলামের নামে এ সাজানো নাটক বেশিদিন থাকবে না। শান্তি ইসলামের মধ্যে আছে এবং বাংলাদেশের মানুষ সবাই অন্যায় অপশাসন দুঃশাসনবিরোধী। এই মানুষগুলোই কিন্তু দেশের স্বাভাবিক শক্তি। এরাই জয়ী হবে। ভবিষ্যত এদেরই। আর যারা নিজেরা খারাপ তারা ধ্বংস হবে। প্রকৃতির নিয়ম আছে। এক ঝুড়ি ফলের মধ্যে যে ফলটা নষ্ট, পঁচা তা নিজেই ধ্বংস হয়ে যাবে। মাটিতে মিশে যাবে। বাংলাদেশের শত শত মানুষের মাঝে যে কয়েকজন কুচক্রি রয়েছে তারা নষ্ট পঁচা ফলের মতো। তারা এমনিতেই একসময় ধ্বংস হয়ে যাবে, বিলীন হয়ে যাবে।

লাবীব আবদুল্লাহ: আধুনিক বিশ্বে গণতান্ত্রিক যে নির্বাচনগুলো হয়, আমাদের দেশসহ বিভিন্ন দেশের ইসলামপন্থিরা তাতে অংশগ্রহণ করে, আপনি ব্যক্তিগতভাবে তা সাপোর্ট করেন কি না? বিপ্লব বা অন্যান্য উপায়ে ক্ষমতায় না গিয়ে গণতান্ত্রিক যে পদ্ধতি রয়েছে এর মধ্যে অংশগ্রহণ করে ইসলামপন্থিরা।
মাওলানা নদভী: ইসলাম একটা পথেই কায়েম হয় আর সেটা হলো বিপ্লব। বিপ্লব অর্থ আমরা মনে করি মারামারি। বিপ্লব অর্থ কিন্তু মারামারি নয়। বিপ্লব অর্থ পরিবর্তন। একটা লোক খারাপ ছিল সে ভালো হয়ে গেছে এটা বিপ্লব। একটা সমাজের মানুষ চরিত্রহীন ছিল, তওবা করে ভালো হয়েছে এটা বিপ্লব। এটা ইসলাম। ইসলামের যে একটাই পদ্ধতি বিপ্লব। সেটা হচ্ছে মননের জগতে বিপ্লব। চিন্তা ও চরিত্রের বিপ্লব। ডিসিপ্লিনে বিপ্লব। এক জায়গায় যদি নির্বাচনের দ্বারা হওয়া যায়, হবেন। এক জায়গায় যদি শিক্ষা আন্দোলনের দ্বারা হওয়া যায়, সেখানে শিক্ষার দ্বারা হবেন। এক জায়গায় যদি সশস্ত্র বিপ্লব চলতে থাকে সেখানে হবেন। এক জায়গায় যদি অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠিত হওয়ার দ্বারা হয় সেখানে তা দ্বারা হবেন। ইসলামের জন্য বৈধ সব পন্থা গ্রহণ করা যায়। এটা করলে কাফের হবে, ইসলামের ক্ষতি হবে এত দ্রুত এসব বলা ঠিক নয়। ইসলাম একটা বড় তাত্ত্বিক বিষয়, আদর্শিক বিষয়। এটাকে পরিপূর্ণভাবে না জেনে কথা বলা যাবে না। যে ব্যক্তি ইসলামের রাজনৈতিক ফিকহ জানে না, ইসলামের সাম্রাজ্য সম্পর্কিত ফিকহ জানে না, অর্থনৈতিক ফিকহ জানে না ও অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে জানে না, সে কীভাবে বলবে কোন পদ্ধতি জায়েয-নাজায়েয? যে দেশে যে পদ্ধতি রয়েছে সে দেশের উলামায়ে কেরাম যদি মনে করেন তাতে অংশগ্রহণ করা যাবে তাহলে অংশগ্রহণ করবে।

লাবীব আবদুল্লাহ: অনেকেই বলে ইসলামের বিষয়াদি তো উলামাদের। আসলে ইসলাম কি সাধারণ মানুষের জন্য নয়?
মাওলানা নদভী: কেউ যদি বলে চিকিৎসা কি শুধু ডাক্তাররাই করবে না সবাই করবে? স্বাস্থ্য সবার জন্য, চিকিৎসা করা সবার জন্য নয়। ইসলামের অনুসরণ ও পালন দারা উপকৃত হওয়া সবার জন্য। পরিচালনা, ইসলামের গবেষণা, ইসলমের উসুল এগুলো আলেমদের কাজ। উনারা আজান দেননা মসজিদে! সমস্ত মসজিদের ইমামরা বসে যাক, জনসাধারণরা এক সপ্তাহ ইমামতি করবে, পারবে কেউ? যাদের যে কাজ তাদেরকে তাদের সে কাজ করতে দিতে হবে। এটা স্পেশালাইজড, তারাই এটার মালিক এমনটা তো না। ডাক্তাররাই শুধু কেন চিকিৎসা করবে? আমরাও চিকিৎসা করবো। করেন আপনারাও। আপনারাও সুস্থ থাকেন। ডাক্তারদের কাজ ডাক্তারদের করতে দেন। আলেম হয়ে আসেন বা আলেমদের নেতৃত্বে চলেন। ইসলাম সম্পর্কে কয়েক পৃষ্ঠা সাদা কাগজ পড়েই আপনি বড় চিন্তাবদি হয়ে গেলেন, এই আলেম যে ২০ বৎসর ২২ বৎসর পড়ল দুটোর মাঝে পার্থক্য আছে না? আপনি ঔষধ বিক্রি করেন। জ্বর হয়েছে নাপা কিনে খেয়ে ফেলেছেন, এতটুকু অধিকার তো আপনার আছে। কিন্তু নাপার সাথে নতুন কোনো উপাদান এড করবেন, ঔষধের পাওয়ার কমাবেন বাড়াবেন, এটা তো আপনি পারবেন না। এটা তো কেমিস্টের কাজ। সব জায়গায় নিয়ম মানেন, ইসলামে এসে ঘাপলা করেন কেন?

লাবীব আবদুল্লাহ: শাইখুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক সাহেব, মুফতি আমিনী সাহেব, মুহিউদ্দীন খান সাহেব, আবু সাঈদ উমর আলী প্রমুখের মৃত্যুর পর এদের ব্যক্তিত্বের পর যে একটা শূন্যতা রাজনৈতিক ও অন্যান্য অঙ্গনে, এ শূন্যতা কীভাবে পূরণ হতে পারে?
মাওলানা নদভী: আমি ব্যক্তিগতভাবে এটাকে শূন্যতা মনে করি না। আমি আজ আমার নানার বাড়ি আছি। আজ আমার নানা নেই কিন্তু মামা তো আছেন। এটা শূন্যতা না, এসময় যিনি থাকার কথা তিনি তো আছেন। যেদিন আমার মামা থাকবে না, আমি থাকবো না সেদিন হয়তো আমার সন্তান এখানে আসবে। মামার ছেলেরা আছে। পৃথিবীতে কেউ অপরিহার্য না। যদি হতো তাহলে রাসুলের মৃত্যু হতো না। হজরত আবু বকর, উমর, আলী, উসমান বিদায় হতেন না। আজকের পৃথিবী যা চায় সেরকম নেতৃত্ব আজকে আছে। বঙ্গবন্ধু আজ নেই শেখ হাসিনা তো আছে, জিয়াউর রহমান নেই খালেদা জিয়া তো আছেন। ২০ বৎসর ৩০ বৎসর পর যারা থাকবেন না তখন তাদের চিন্তা লালন করার জন্য অন্য কেউ আসবে। তাদের সন্তানরাও আসতে পারে, অন্য কেউ আসতে পারে। তাহলে শাইখুল হাদিস, মুফতি আমিনী, মুহিউদ্দীন খান যাদের কথা বললেন, উনারা তো থাকবেন না। আদর্শটাকে আজকের সে সমাজ এখানে যাদের প্রয়োজন তারা অগ্রসর হবে। কাজেই শূন্যতা তৈরি হলো, কাজ চলবে না, এ কথাগুলো কিন্তু ইসলামে নেই। আজকের দিনে যিনি আসেন তিনি কাজ করবেন এবং তিনি যোগ্যও হবেন। এবং তাদের পূর্বে যারা ছিলেন তাদের সাথে একটা লিংক থাকতে হবে। পৃথিবী তো এগিয়ে যাচ্ছে। কালকের নেতার চেয়ে আজকের নেতা আরো ভালো হবে। হতে হবে। সেই কোয়ালিটির জন্য সবাই মনোযোগ সহকারে কোরআন-সুন্নাহর অনুসরণ এবং যার যার নিজের কাজ ভালোভাবে করার চেষ্টা করে যেতে হবে। শূন্যতা তৈরি ইত্যাদি কথা হতাশার কথা। তাদের শূন্যতা পূরণ হবে না এগুলো আমি মনে করি না।

লাবীব আবদুল্লাহ: বস্তুবাদীরা উন্নত হচ্ছে কিন্তু আমাদের আধ্যাত্যিক জগতকে উন্নত করার জন্য কী করতে পারি?
মাওলানা নদভী: আধ্যাত্মিক শূন্যতা পূরণের জন্য তো ইসলাম আমাদের মাঝে আছে, কিন্তু ইসলামকে আমরা এপ্লাই করি না। এটাই আমাদের শূন্যতার কারণ। এখন… আধ্যাত্মিক শূন্যতার কারণ কী? দেশে এত আলেম, সবার কাছেই কোরআন সুন্নাহ আছে। অতিতের বুজুর্গদের নমুনা আমাদের মাঝে আছে। আমরা আমাদের প্র্যাকটিকেল জীবনে সেই সততা, নিষ্ঠা, নীতি ও সাধনাটা প্রয়োগ করি না। আধ্যাত্মিক শূন্যতাটা আমরা নিজেরাই রেখে দিই কাজেই আমাদের মনটা ভরে না। আমাদের মনটাই যদি আধ্যাত্মিকভাবে পুষ্ট না হয় তো জনগণকে আমরা কী দেব? লালনের একটা গান আছে ‘হাতের কাছে ভরা কলস, তৃষ্ণা মিটে না’। কারণ আমি তো পানি দেখে খাই না। লালন মরণ জল পিপাসায় থাকত নদী মেঘনায়, কারণ মেঘনার কাছে তো সে যায়নি। ইসলাম তো আমাদের কাছে আছে। আলেমদের মাঝেই সেই আধ্যাত্মিক চেতনা চর্চা আগে বাড়াতে হবে। আজকের পৃথিবীতে যে শূন্যতা তা পূরণ করার জন্য আগে ইসলামকে উপস্থাপন করা, যদি ইসলামকে তার রূপমতো মানুষের চাহিদা পরিমাণ অগ্রসর করে দেওয়া যায় তাহলে আগামী দিনটা ইসলামের। আমার একটা লেখা আছে ‘সময় এখন ইসলামের’। পৃথিবীর অবধারিত ভাগ্য হলো ইসলাম। যারা ইসলামের কাছে এসেছে তারাই শান্তি পেয়েছে। যতটুকু দীন মানুষের মাঝে আসে ততটুকু সে শান্তি পায়। বিশ্ব সভ্যতা যদি ইসলামের কাছে আসে তাহলে বিশ্ব শান্তি পাবে অন্যথায় বিশ্ব শান্তি লাভ করতে পারবে না। তাই আমি সবাইকে বলি ইসলাম গ্রহণ করুন। ইসলামের অর্থ হলো তাকওয়া অর্জন করা। আল্লাহর ভয়ে নিজেকে সঠিকভবে সতর্কতার সাথে পরিচালনা করা। আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করবে, ইসলাম গ্রহণ করবে, ইসলামকে অন্তরে স্থান দেবে, সে আত্মিকভাবে পূর্ণতা লাভ করবে এবং তাদের দ্বারা সাড়া পৃথিবী শান্তি পাবে।

Facebook Comments