প্রেম, তুমি ভালোবাসো

প্রিয় জানালা,
জানো কি রাতাধারে ভীড় জমে হাজারো বাক্য তোমার ওপাশে? আমি ডাক শুনি। পাখির মতো কুহু কুহু ডাক। আমি ভাব নিই, জানি না কোথাকার তাল! বোকা বাচ্চার মতো আবার ডাকে—কুহু কুহু। মাতাল হয়ে সাড়া দিই। বিভোর হই, আফিমে নেশাগ্রস্ত হওয়ার চেয়েও বেশি। জানালা খুলতেই চকিতে করোটিতে নেয় স্থান। কলমেরা সজাগ। টানটান উত্তেজনা। উত্তেজিত। হয়, লেখার প্রসববেদনা। আমি প্রেমিকাকে ঘিরে এক রাত দিই, বনে প্রেমের আখ্যান। লেখারা বলে—ভালোবাসি। আমি ঘাসের মতো কোমল হয়ে শব্দদের জায়গা দিই আমাতে। আহ্, কি আরাম!

প্রিয় প্রেম,
তোমাকে লেখতে গেলে আমি বাস্তব নয়, মিছেমিছি অজ্ঞান হই। দূর থেকে আসে খুন হওয়ার জন্য তীক্ষ্ণধার কিছু, যেন একের পর এক কোপ সজোরে পড়ে মস্তিষ্কে। শব্দের ধারালো রক্তফলে প্রেম হয়ে যায় রক্তজবা। আমি ভুল করেও কলম টানি না—কলম হারাতে থাকে, মনের গভীরে। খুব ভিতরে। যেই খাদের পরিমাণ করতে যেয়ে আমার মৃত্যু হয়—হাজার বছর আগে। কি আর করিবো বিচার?

প্রিয় মেঘ,
কালো গুড়ুম গুড়ুম ডাকাকালে আমি শুনি—ঠিক বুকের মাঝখানে হাহাকার। বিশাল কষ্টের বোবাকান্নায় হই অবাক। একি, কাঁদে মেঘ আর আমি এখনো ডাক শুনি। আমার চোখের বৃষ্টি নেই। কই? মেঘের কান্নার মতো কাঁদতে কাঁদতে মনে পড়ে—এই তো কাঁদছি আমি। কাঁদছে মেঘ। বৃষ্টির মাঝেও কান্নার পানি সব আলাদা হয়ে যাচ্ছে। অদ্ভুত!

প্রিয়তমা,
সেদিন দেখি কি জানো? কবরের বিশাল মাঠ। যেন মাটি খেয়ে নিয়েছে সব অহংকার, অভিমান, অভিযোগ, সাথে না বলা বাক্যসব। কবরস্থানে কেউ নেই। একা আমি। দেখি—এক মহিলা হাঁটু গেঁড়ে বসে কাঁদছেন, যেন মাত্রই ব্যাথা পেয়েছেন তিনি। শুদ্ধতার লেশ নেই চামড়ায়, খেয়ে নিয়েছে বয়স। বয়সের বাড়ে নুইয়ে যেন পিঠ। আমি বোকার মতো দেখে গেলাম তার কান্না। শুদ্ধতার ছড়াছড়ি। কাপড়ে দরিদ্রতার ডাক। এভাবে হাত উঁচিয়ে কবর পাশে রেখে কান্না করার দৃশ্য কখনো দেখিনি। কৌতূহল আমায় খুন করছিলো। দুআ শেষে জিগ্যেস করি—কবরস্থানটা কার?

আমি উত্তর শুনে মনে মনে কেঁদে দিই। বাস্তবের চেয়ে বোবাকান্না কষ্টের খুব। মহিলা তার হারিয়ে যাওয়া প্রেমিক স্বামীর জন্য দুআ দেখে অবাক, আমি মাটিতে পড়ে থাকা বিশাল স্বর্ণের খনি দেখার মতো অবাক। মহিলা উত্তর দিয়ে ধীরপায়ে চলে যায়। মনে জাগে—আমি মারা যাবো। প্রিয়তমা, হাঁটু গেড়ে আমার জন্য একটু ভালোবেসো। মরা স্বামীর প্রতি একটা মেয়ের এমন ভালোবাসা দেখে মানুষ হিংসা করুক।

Facebook Comments