ছুরি চিকিৎসা

কাকলীর কান্না এখন অসহ্য লাগে। মানুষের প্রতি মানুষের সহানুভূতির বিভিন্ন স্তর আছে। কাকলী সব স্তর পার হয়ে এসেছে। কারণে-অকারণে কান্না করে। ভুল বললাম বোধহয়। আমার কাছে ওর কান্না বিরক্তিকর মনে হলেও ‘অকারণ’ নয়। অল্প বয়সে বিধবার কাতারে চলে যাওয়া কোনো মেয়ের কাছে কান্নার চেয়ে স্বাভাবিক বিষয় আর আছে কি? মনে হয় না। কাকলীর সৌজন্যে এটা এখন আরও পরিষ্কার। কান্নায় লাভ নেই জেনেও কাঁদে। কিছুক্ষণ বিরতি দেয়, তারপর আবার কান্না জুড়ে দেয়। ওকে দেখে কান্না বিষয়টাকে আর ভারী মনে হয় না। এক জীবনে আর কত কাঁদবে সৃষ্টিকর্তা ছাড়া আর কারও তা জানার উপায় নেই।

কৌশিককে বিয়ে করে সুখী ছিল—ওদের দেখে তেমনটা কখনোই মনে হয়নি। আজ এ সমস্যা তো কাল আরেক সমস্যা। নতুন সমস্যাগুলো পূর্বের চেয়ে আরও সঙ্কটপূর্ণ ও জটিল হয়ে ওঠে। ছয় মাসে তিন বার বাসা পরিবর্তন আর কৌশিকের সঙ্গে মনোমালিন্যের কারণে চার-পাঁচবার সংসার ছেড়ে আসা মেয়ের স্বামী হারানোর প্রতিক্রিয়া এমন তীব্র হতে পারে তা ভাবনার বাইরে ছিল। বাবা-মা নেই। নেই বলতে বহু আগেই দায়িত্বের পাঠ চুকিয়ে শান্তির দেশে ঘুমাচ্ছেন। আমরা দুই ভাই-বোন বুঝে নিয়েছি জীবনের গতিপথ। কাকলী ছাড়া বলার মতো আপনজন আমার কেউ ছিল না। কাকলীও আমাকে তেমনই ভাবত, এখনো ভাবে। সুখে-দুঃখে যার ওপর ভরসা করা যায় তেমন একজন ভেবেই এ সংসারের সঙ্গে ও হৃদ্যতা বাড়িয়েছিল। ভালোবাসার সবটুকু ঢেলে দিয়েছিল এ সংসার আর সংসারের মানুষদের প্রতি। এটা যেন ওরও বাড়ি! বিষয়টা আমি বেশ উপভোগই করতাম। ও এলে অতি আপনজন পাশে থাকার স্বস্তি মিলত। কিন্তু ওর হুটহাট করে এ বাড়িতে চলে আসা নিয়ে উপমা প্রায়ই মন খারাপ করত। আমি পাত্তা দিতাম না। ননদ-জেঠাসদের সহ্য করার মানসিকতা বাঙালি বধূদের মধ্যে কোনোকালেই ছিল না। হুট করে উপমা তাদের থেকে ব্যতিক্রম হয়ে যাবে এমন ভাবনাটাও বড্ড স্থূল ছিল। তবে উপমা কাকলীকে কখনোই কিছু বলত না। কৌশিক মারা যাওয়ার পর ওকে এ বাড়িতে আশ্রয় দিয়ে উপমা মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছে, এ কথা বলাই বাহুল্য।

উপমার সঙ্গে আমার প্রেমের বিয়ে নয়, স্বার্থের বিয়ে। একটা চাকরির জন্য তখন দিনকে রাত আর রাতকে দিন করে ফেলেছি। লিখিত পরীক্ষা দিচ্ছি, মৌখিক পরীক্ষা দিচ্ছি; ভাগ্যে শিঁকে ছিঁড়ছে না। এদেশে বেকারদের অকর্মণ্য মনে করা হয়। তাদের হাতে অগাধ সময়। অথচ আমার অভিজ্ঞতা থেকে জানি, তাদের চেয়ে ব্যস্ত মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। আজ এ পরীক্ষার প্রিলিমিনারি, তো কাল আরেক পরীক্ষার রিটেন। সেখানে টিকে গেলে ভাইভা। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ছোটাছুটি। পত্রিকার পাতায় চাকরির বিজ্ঞাপন দেখলেই মনে হতো এটা কেবল আমার জন্যই দিয়েছে! আমাকে ছাড়া ওই প্রতিষ্ঠানের চলবেই না। ভুল ভাঙতে সময় লাগত না। ধারণা, কল্পনা, স্বপ্ন আর বাস্তবের মধ্যে ব্যবধানগুলো একে একে উন্মোচিত হতে থাকে। দিনের পর দিন প্রত্যাখ্যাত হতে থাকি। বাস্তবতার ইট-পাথরে হোঁচট খেতে থাকে স্বপ্নগুলো। আর কিছুদিন এভাবে চললে ভেঙে পড়তাম নিশ্চিত। আমাকে ভেঙে পড়া থেকে বাঁচাল উপমার মা। ওর ছোটবোন অনুরাধাকে পড়াতাম বাসায় গিয়ে। দেখতে-শুনতে মন্দ ছিলাম না, লেখাপড়া জানা ছেলে; কেবল একটা চাকরি হলেই শেয়ারবাজারের ব্যস্তানুপাতে আমার দর বাড়বে। এ অবস্থায় উপমার মা বড় ভরসা হয়ে এলেন। তার এক ভাই মন্ত্রণালয়ের প্রভাবশালী ব্যক্তি। তাকে দিয়ে হালকা সুপারিশ করিয়ে আমাকে গভীর খাদ থেকে টেনে তুললেন। শুধু তা-ই নয়, উপমার মতো যথেষ্ট সুন্দর একটা মেয়েকে জীবনসঙ্গী বানিয়ে দিলেন। যদিও বন্ধুরা বলে বিয়ের বিনিময়ে চাকরি পেয়েছি। আমার লাজ-লজ্জা কম বলেই এসব শুনতে খারাপ লাগে না। যেভাবেই হোক বলার মতো চাকরি তো পেয়েছি! আর বউ! সেটাও কম বড় পাওয়া নয়। চাকরি পেয়েও বিয়ে না হওয়ার তালিকায় কতজনের নাম উঠে গেছে। আমার তো সে ঝুঁকিটাও আর থাকল না!

অবস্থা দিনকে দিন খারাপের দিকে যেতে থাকে। আগে কাকলীর শুধু বিলাপ ছিল। এখন তার সঙ্গে ছোট-খাটো আরও অনেক সমস্যা জড়ো হচ্ছে। কয়েকটা নমুনা দেওয়া যাক। বাসায় দুইটা বাথরুম। একটা ওর জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। উপমার ভাষ্যমতে, দিনের প্রায় পুরোটা সময় কাকলী বাথরুমে বসে থাকে। উপমার রান্না খায় না। নিজের জন্য আলাদা করে রান্না করে। এক বাসায় থেকে এমন আচরণ সে মেনে নেবে কেন! তাছাড়া উপমা কয়েকদিন দেখেছে ওর হাতে ছুরি। সে সামনে এলেই কৌশলে লুকিয়ে ফেলে। উপমার ভয় করে। কখন কী করে ফেলে! শেষে না নিজেরাই ফ্যাসাদে জড়িয়ে যাই! অবশ্য আমার সঙ্গে যখন কথা বলে তখন অস্বাভাবিক কিছু খুঁজে পাই না। কিন্তু উপমা সারাদিন বাসায় থাকে। আমার কাছে প্রকাশ না পেলেও ওর কাছে সবকিছুই প্রকাশ পায়। এভাবে চলতে থাকলে উপমা যেকোনো সময় এ বাড়ি ছেড়ে চলে যাবে। ওর আকার-ইঙ্গিতে অনেকবার সে কথা প্রকাশ পেয়েছে। ভাগ্যিস আমি বাড়িতে থাকি না। অফিস শেষ হলেও সাথে সাথে বাধ্য স্বামীর মতো ঘরে প্রবেশ করি না। দু-তিন কাপ চা গলাধঃকরণ করে, এর-ওর সঙ্গে টুকটাক গল্পস্বল্প করে তবেই ফিরি। দিনের আলোর মতো রাতের আঁধারের অনেক গুণ আছে। আঁধার মানুষের মধ্যে সূক্ষ্ম একটা পর্দা টেনে দেয়। অপ্রার্থিত মুখগুলো চাইলেই খুব সহজে এড়িয়ে চলা যায়। আমিও তাই করি।

উপমা কানের কাছে ঘ্যানঘ্যান করে। ওকে নাকি শাসিয়ে কথা বলেছে কাকলী! ওর বাবা-মাও কখনো মনে আঘাত দিয়ে মুখের ওপর কথা বলেনি, সেখানে কাকলী এমনভাবে কথা বলার সাহস কী করে পায় আমার কাছে জানতে চায়। আমি গুরুত্ব দিয়ে শুনি। আমলে নেওয়ার ভান করি। উপমা অন্যদিন এতেই খুশি হয়। আজ হলো না। আমাকে একটা বিহিত করতেই হবে। আমি তাকে আশ্বস্ত করি। চুপচাপ কাকলীর ঘরে ঢুকি। ঘরের সব বাতি বন্ধ। ঘর ঘুটঘুটে অন্ধকার করে রেখেছে। এই কক্ষে অন্ধকারের তীব্রতা এত বেশি কেন? মানুষের অবস্থার সঙ্গে অন্ধকারের তীব্রতারও কি হেরফের হয়? হতে পারে। প্রকৃতির খেলা বোঝার সাধ্য আছে কজনার!

কাকলী ফুঁপিয়ে কাঁদছে। ওর কান্নার সুর বুকের পাঁজর কাঁপিয়ে দিচ্ছে। ওর মনটাকে যদি ধুয়ে-মুছে একেবারে ঝকঝকে করা যেত তবে তাই করতাম। আমি অক্ষম। কিছু করতে পারি না বলেই আস্তে করে কাকলীর মাথায় হাত রাখি। ওর কান্নার শব্দ থামে। চোখ মুছে আমার দিকে তাকায়। তড়িঘড়ি করে কী যেন লুকিয়ে নেয় ওড়নার নীচে। হয়তো কৌশিকের কোনো ছবি বা কাকলীকে লেখা তার কোনো চিঠি। এটা একান্তই ওর ব্যক্তিগত। সেদিকে যাই না। আমার আগেই ও বলে ওঠে—‘তুমি খেয়েছ ভাইয়া?’

স্রোতহীন শান্ত জলের মতো কণ্ঠ। একেবারে স্বাভাবিক। কিছুটা আদর মেশানো।

‘না রে, তুইও তো খাসনি, চল একসঙ্গে খেয়ে নিই।’

ও একটু থাামে। তারপর বাড়ির কর্ত্রীদের মতো করে বলে—‘তার দরকার নেই। তুমি বরং ভাবীর সাথেই খেয়ে নাও। আমি পরে খাচ্ছি।’

কথা বাড়াই না। আমিও যেন এটাই চেয়েছিলাম। উপমাকে ফেলে কাকলীর সঙ্গে খাওয়া আমার জন্য ধৃষ্টতার পর্যায়ে পড়ে। জেনে-শুনে এমন অন্যায় করার শক্তি, সাহস বা ইচ্ছে—কোনোটাই আমার নেই।

‘একটা কথা বলি।’

‘বলো ভাইয়া। তোমার কথা শুনতে আমার খুব ভালো লাগে।’

‘তুই সারাদিন কাঁদিস কেন রে? কৌশিকের কথা খুব মনে পড়ে?’

‘আমার কান্নার দুটো কারণ। একটা কৌশিক, অন্যটা তুমি।’

কাকলীর কথায় আমি হেসে ফেলি। সত্যি সত্যিই বোধহয় ওর মাথায় একটু সমস্যা হচ্ছে। না হলে আমাকে ওর কান্নার কারণ বানাতে যাবে কেন! আচ্ছা, একটা ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করলে কেমন হয়! এখন তো কিঞ্চিৎ অস্বাভাবিক আচরণ করলেই মানসিক রোগের ডাক্তারের শরণাপন্ন হয় সবাই। সেখানে কাকলীর আচরণ কেবল অস্বাভাবিক নয়, কিছুটা শঙ্কারও। এটা নিয়ে উপমার সঙ্গে আলাপ করতে হবে।

উপমা দিন দিন নিজেকে কেমন যেন গুটিয়ে নিচ্ছে! প্রধান কারণ অবশ্যই কাকলী। এ অবস্থায় ওকে অন্য কোথাও রেখে আসব, তেমন জায়গা নেই। ওকে আশ্রয় দেওয়ার মতো আপন কেউ নেই। আরেকটু স্বাভাবিক হলে বাইরে কাজের কথা ভাবা যেত। কিছু না হলে টিউশনি করাতে পারত। তাতে অনেকটা সময় বাইরে কাটাতে পারত। এসবের জন্য সময়ের দরকার। উপমাকে ততদিন শান্ত রাখা খুব কঠিন হয়ে যাবে।

রাতে ঠিকমতো ঘুম হয়নি। সকাল থেকেই মাথার ব্যথাটা তীব্র হয়ে ওঠে। পর পর দু কাপ চা আর দুটো নাপা এক্সট্রা খেয়েও লাভ হয় না। ব্যথাটা বাড়ছেই। চোখের মণি দুটো কোটর ভেদ করে বেরিয়ে আসতে চাইছে। দুপুরের পর অবস্থা আরও খারাপের দিকে গেলে বসকে বলে বাসার দিকে রওনা হই। এমন অসময়ে অনেকদিন বাসায় যাই না। একটা লম্বা ঘুম দেওয়া যাবে। বিকেলে ভালো লাগলে উপমা আর কাকলীকে নিয়ে বের হব। অনেকদিন একসঙ্গে বাইরে যাওয়া হয় না। টুকটাক কেনাকাটা আছে। সেগুলো সারতে হবে। ওরাও বাইরের হাওয়া গায়ে মেখে খুশি হবে। তার আগে ঘুম চাই। চোখ দুটোর বিশ্রামের জন্য ঘুমের খুব প্রয়োজন। রিকশা থামিয়ে মোড়ের দোকান থেকে কয়েকটা মাথাব্যথা আর ঘুমের ওষুধ কিনে নিই। আগে প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধের দোকানে ঘুমের ওষুধ বিক্রি হতো না। দোকানিরা ভাবতেন ঘুমের ওষুধের সঙ্গে খারাপ মতলব আছে। প্রেমে ব্যর্থ হয়ে আত্মহত্যার চেষ্টাকারীদের অন্যতম ভরসা ঘুমের ট্যাবলেট। এখন চাইতেই পাওয়া যায়। মানুষের স্বাভাবিক ঘুম কমে আসছে বোঝা যায়। ওষুধ খেয়ে ঘুমানো মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। একটা জরিপ হলে বোঝা যেত, এদেশের শতকরা কত জন মানুষ ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমায়। পরিচিত কোনো ডাক্তার থাকলে জিজ্ঞেস করা যেত, এটা কোনো খারাপ ইঙ্গিত বহন করে কিনা!

কলবেল টিপতেই হুড়মুড় করে কাকলী ছুটে আসে। ওকে উদ্ভ্রান্তের মতো দেখাচ্ছে। আমাকে টানতে টানতে ওর ঘরের দিকে নিয়ে যায়। আমি বিস্ময় লুকাতে পারি না।

‘তুই এমন করছিস কেন রে?’

‘তুমি আজ এমন সময় আসতে গেলে কেন?’

‘আমি এলে তোর খুশি হওয়ার কথা। অথচ…’

কথা কেড়ে নিয়ে কাকলী বলে, ‘তোমার ভালোর জন্যই বলছি। তুমি এখন এসে ভুল করেছ।’

‘কেন সেটা বলবি তো?’

‘আমি বলতে পারব না।’

‘তোর ভাবীকে ডাকি তাহলে।’

কাকলী জানা কিংবা অজানা শঙ্কায় চমকে ওঠে। আমার দুহাত চেপে ধরে বলে, ‘খবরদার তুমি ও ঘরের দিকে যাবে না। ওরা তোমাকে মেরে ফেলবে।’

আমার মাথা চক্কর দিয়ে ঘুরে ওঠে। শিরাগুলো দপদপ করতে থাকে। ‘ওরা’ মানে কারা? হ্যাঁচকা টানে কাকলীর মুঠো থেকে হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বেডরুমের দিকে যাই। ভেতর থেকে দরজা বন্ধ। অনেক ধাক্কাধাক্কির পর দরজা খোলে। উপমা নয়, বেরিয়ে আসে প্রদীপ। উপমার পিসতুতো ভাই। ওরা প্রায় সমবয়সী। বিয়ের আগে সখ্য ছিল। বিয়ের পরও যোগাযোগ ছিল। বন্ধুর মতো কথা বলত। আমি কখনো সন্দেহের চোখে দেখিনি। অথচ…

উপমার নাম ধরে ডাক দিই। সাড়া মেলে না। প্রদীপ চলে যেতে উদ্দত হয়। আমি ওর কলার চেপে ধরি। এ বাড়িটা কেন কাকলীর জন্য নরক হয়ে উঠেছিল বুঝতে বাকি থাকে না। আমি ওর কান্নার কারণ হওয়াটাই স্বাভাবিক। প্রদীপকে কষে একটা চড় লাগাই। ও কিছুটা দূরে ছিটকে পড়ে। বাথরুম থেকে তড়িঘড়ি বেরিয়ে আসে উপমা। আমার ক্রোধান্বিত চোখ উপেক্ষা করে প্রদীপের পক্ষ নেয়। দুজন আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। আমি প্রবল বিস্ময়ে ঘোরের মধ্যে চলে যাই। এই মেয়েটার সঙ্গে এতদিন একই বিছানায় ঘুমিয়েছি! আমার জীবনের একটা বড় অংশ ভেবে নির্দ্বিধায় সব ভাগাভাগি করেছি! আমার সঙ্গে এত বড় প্রতারণা করবে কখনো ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারিনি। প্রদীপ সুযোগটা নেয়। আমার মুখ চেপে ধরে। নড়তে পারি না। শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। আচমকা পাশের ঘর থেকে ছুটে আসে কাকলী। ওড়নার ভেতর থেকে চকচকে ছুরিটা বের করে প্রদীপের ঘাড়ে বসিয়ে দেয়। এটাই ও যত্নে লুকিয়ে রাখত। উপমা দৌড়ে পালায়। আমি প্রদীপের শরীরের ওপর দখল নিই। চলতে থাকে ছুরি চিকিৎসা। কাকলী হো হো করে হেসে ওঠে। ওর বুকের দমধরা বাতাস হাসির সঙ্গে বেরিয়ে যাচ্ছে। রক্তে ভেসে যাচ্ছে আমার দুই হাত। এটা ঘুমের ওষুধের মতোই কাজ করছে। শান্তিতে আমার চোখজোড়া বুজে আসছে। ঘুমের ওষুধ ছাড়াই আজ লম্বা একটা ঘুম দিতে পারব। উপমা কাকে যেন ফোন করে ঘটনা বর্ণনা করছে। ওর একটা ফোনে হয়তো ঘটনা উল্টে যাবে। তখন আর জাগতিক কোনো কষ্ট আমাকে ছোঁবে না, অনন্তকালের জন্য ঘুমাতে পারব।

Facebook Comments