আমরা মানুষেরা

অথচ দ্যাখো আমাদের জন্ম সেই একই পন্থায়,
আলাদা নামে ডাকলেও সৃষ্টিকর্তা সেই একজনই।
তবুও আমরা নিজেদের কত আলাদা করে দেখি,
অন্যের চেয়ে কত মূল্যবান ভেবে বসি মাঝেমধ্যে এই আমাকেই।

হিংসা পুষে রেখে মাড়িয়ে যেতে চাই একটু নুয়ে পড়া জনদেরকে,
সুযোগসন্ধানী আমি সুযোগ পেলে ছাড় দেই না নিজ ভ্রাতাকেও
উপরে উঠার লোভে দিন দিন কতটা নিচে নামছি নিজের অগোচরেই,
বিবেককে ছাড়িয়ে নিজেকে টেনে নিয়ে চলছি স্বার্থপর এক জগতে
আমি ভুলতে বসেছি আমার শেকড় আর অস্তিত্বকে
বিসর্জন দিয়ে যাচ্ছি আমি আমার মানুষ নামের মনুষ্যত্বটাকে।

রক্তের গ্রুপটা আলাদা হলেও রঙটা কিন্তু সেই লালই,
হাড়-মাংস আর চামড়ার মানুষই তো আমরা।
কেবল মনে আর মস্তিষ্কে পুষে রাখি যত কলুষতার পাহাড়,
শরীরে শরীরে ঘেঁষাঘেঁষি অথচ অন্তরে জমা রাখি বিষ।
অপরকে ছাড়িয়ে উঁচুতে উঠার নেশায় তৈরি করি ব্যস্ততার গণ্ডী,
দূরত্ব বাড়িয়ে শান্তি খোঁজার বোকামিতে পা বাড়িয়ে হাঁটি।

অথচ নির্বোধ আমি পার্থক্যের এই দেয়ালটা ভাঙ্গি না,
বিনিময়ে দিন ফুরালে শূণ্যতা ছাড়া কিছুই খুঁজে পাই না।
একবার ভাবি না, শান্তিদের দূরত্বে নয় নিকটে বসবাস
আর দূরত্বের শরীরে শরীরে নয় আপনা মনেই আবাসস্থল।

ভেজালের এই দুনিয়াতে নির্ভেজাল হাসি বেজায় দামি জিনিস,
মুখে হাসি সকলেরই কিন্তু ভেতর থেকে হাসতে পারে খুব কমজন।
প্রাণোচ্ছল হাসির জন্য ভেতরের আবর্জনা তাড়ানো খুব বেশি প্রয়োজন।

Facebook Comments