আত্মজৈবনিক অপরাধ প্রাচীর

ডিজাইন : মুহারেব মুহাম্মদ

সামান্য দৈর্ঘ্যের একটা সাদাকালো পাণ্ডুলিপি চাপা পড়ে আছে কোমল দিশেহারা পৃথিবীর বুকে। দোলনচাঁপা—ছাপাখানার বিদ্যায় হয়তো ভেসে ওঠা হলো না আর। কিন্তু প্রবল তোমাদের প্রাগঢ়তা দেখে আমি অভিভূত প্রাণে—নির্জন পারাবার হয়ে দেখেছি দোলায়িত শিক্ষার সুযোগ; জিয়ন দাবি রেখে এলাম—নীরব কথিকা সুরে। কোনো একদিন আমি যেন তুমুল উচ্ছ্বাসের মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলতে পারি—‘যে লজ্জায় আমাকে দেখছ; সীমানার রেখা আমিই তৈরি করেছিলাম। আড়াল গোনার দিনে পেয়েছিলাম সামান্য সুখের দিনগুলো, ভেবে নিতাম—এমনো উল্লাস মেখে টিকে আছি তোমার মতো।’ ছোট ছোট পা বাড়িয়ে জেনে নিতাম, ফেরা হবে না কখনো রাজ স্লোগানে; খসখস মাপকাঠির অক্ষরগুলো হয়তো বেড়ে উঠত না অপরাধ জ্ঞানের। তবুও আজ বলছি—স্বীকারোক্তি কিংবা জবান খোলা বাক্য মিশিয়ে—কোমল মঞ্চের নিবিষ্ট পাঠক হয়েই ফিরব আমি এক একটি সার্টিফিকেট বুকে। পতাকার মতো ছেড়া ছেড়া পাতা, যদিও দোষের-গুনে হত্যা হচ্ছে কেবল সূক্ষ্ম দিনের মহাপাপ।

কোথাও কারও সঙ্গে আমার কোনো লেনদেন নেই, তবুও স্মৃতি হয়ে মিশে গেছে পথ-পাতার আত্মায়—সেইসব গাছগুলোতে আমারও অক্সিজেনের অধিকার ছিল; পাইনি শুধু ফসলের বীজ। রোপণ ফর্মায় ডুবে গেছে শতশত ধোঁকাবাজ—আমার ভাবনার মতোই অদ্ভুত কোনো উল্লাস দাঁপিয়ে তারা হাঁপিয়ে উঠেছিল জলের চাকায় শীতল হওয়া কিম্ভুতকিমাকার আনন্দ। দেখে নিয়ো—চোখ যেদিন দগদগে হয়ে উঠবে, আসবে যখন দিন; বলব—‘আমার পরিচয়টা তখন শূন্য ছিল।’

হারিয়ে যাওয়ার দিন, কোথাও হয়েছে বিলীন। যে প্রাণের পদছায়া কখনো নীরব বাঁকে বাদল হাওয়ায় উড়ে যায়—সেখানে অপেক্ষার আরও একটি নাম—সাদর সম্ভাষণ। দীঘল সুখের নিনাদ আবির মাখিয়ে কেউ লিখে যাবে হয়তো দিন; কিন্তু ধীরে ধীরে লেখা সেই নামের টান কি কখনো ছিঁড়ে যাবে?

হারিয়েছি; বাকিটা তোমরা দেখবে—হয়তো জ্বলছিলাম শুধু শিশিরের সবুজ বারান্দার আবহ-আবহাওয়া দূরে কোথাও পথ শোভিত করে বয়ে যাচ্ছে—নদীমাতৃক দিন! তুমি তো বন্ধু চিনতে আমায়, ‘ছেলেটা কেবল কবিতা লিখত।’

সবুজ পাতা ছুঁয়ে দেখার শহরে—বারবার বলতে ইচ্ছে করে ‘ভেজা একটি দিন’—যেখান থেকে হারিয়ে গেছে সুনীল—ভেজার আগেই’; এখন শুধুই দেখতে থাকা পাণ্ডুলিপির পাতা। আজ তুমুল সত্য পড়তে গিয়ে দেখেছিলাম, নামপত্র হয়েছে অধিভুক্ত জীবন। চাইব বলে আবার এক টুকরো সবুজ বনের পাতা—নিয়ে যাচ্ছি সাদর বনে। সেখানটা যদি হয়ে উঠে জীবন নামের নাট্যমঞ্চ, তখন আমি একাকী বনের নীরব পাতা রবো না আর—দেখব কতক পাখির ডাক!

পথ বদলাও মুসাফির—চলে যাচ্ছি; নীল নৌকায়। দেখা হবে ওই যে সেখানে—মিলে আছে তোমাদের প্রেম, ডাক, হাজারো আর্তনাদের সুর। অদ্ভুত আমি দেখতে পাই—পাট পালকের মাঝারি ছাতার আওয়াজে উড়ছ তোমরা—অন্য বনের পাখি হয়ে। উড়তে থাকো, যেদিন তুমি জানতে পারবে, আমিও ছিলাম নামের চাওয়ায়। অথচ দিব্যি করা ভোরের মতোই নাম করে ফেলেছ—আমার প্রিয় বারান্দা।

গোছানো কোনো একদিন যদি শরতের মতো দিন আসে। আমি চলে যাব বহুদূর। কী করে বসে আছে শালিকের বাসায় ডিম—পারা একা বসন্তের যে অপেক্ষা—ধরে ধরে টানছে। কোথাও প্রাচীর টেনে দিলেও, রয়ে গেলাম নিরুত্তাপ উদাসীনতায় ভর করা জট পাকানো—ঝিমিয়ে থাকা জীবন।

Facebook Comments