অলস পিঁপড়ের বিপদ

রাণী-পিঁপড়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলেন। এবার আর মাটির উপরে বাসা বানাবেন না। ঢের শিক্ষা হয়েছে তার। এ নিয়ে পরপর দুবার মানুষের পা পড়ে বাসা ভেঙ্গেছে। রাণী মনে মনে ভাবলেনআচ্ছা, তারা একটু সতর্ক হয়ে হাঁটলে কী এমন ক্ষতি হয়! আমাদেরও তো প্রাণ আছে, অনুভূতি আছে, আণ্ডাবাচ্চারা মারা গেলে কষ্টে বুকটা ফেটে যায়।

রাণী-পিঁপড়ে নিরাপদ বাসা বানানোর পরিকল্পনা করলেন। এবার বাসাটি হবে মাটির গর্তে। শুরুতে চিকন লম্বা একটি সুড়ঙ্গ থাকবে। যেন বড় কোনও শত্রু আক্রমণ করতে না পারে। সুড়ঙ্গ পেরিয়ে মাটির গভীরে হবে বাসাটি। সেখানেই আরাম-আয়েশ করে থাকবে সবাই।

যেই ভাবা সেই কাজ। দলবল নিয়ে বের হলেন রাণী। ভালো একটি জায়গা খুঁজতে শুরু করলেন। কিছুক্ষণ পর পেয়েও গেলেন। নদীর পাশেই একটি ঘন জঙ্গল আছে। গাছপালা ও পশুপাখি দিয়ে ভরা। এখানে খাবারের কোনও অভাব হবে না। জঙ্গলের ঠিক মাঝামাঝি জায়গাটি পছন্দ হলো তার। রাণী-পিঁপড়ের নির্দেশে মাটি খনন শুরু করল শ্রমিক-পিঁপড়েরা।
দলটির মধ্যে একটি পিঁপড়ের নাম ছিল পিঁপতু। বেশিদিন হয়নি তার চোখ ফুটেছে। তবে কাজ করার বয়স হয়েছে। কিন্তু কাজ না করে বসে আছে সে। তা দেখে রাণী-পিঁপড়ে জিজ্ঞেস করলেন, কীরে পিঁপতু, বসে আছিস কেন?
‘কী করব?’
‘সবাই কী করছে, দেখছিস না? কাজ করবি!
‘কী কাজ করব, বলেছো আমাকে?’
‘বলতে হবে কেন? ভাইয়াদের সাহায্য-সহযোগিতা কর!’
‘কেউ তো ডাকেনি।’
‘উহু, নিজ থেকেই করতে হয় এসব। আচ্ছা, কাজ দিচ্ছি তোকে। ঐ যে ওখানে একটা মোটা তেঁতুলগাছ আছে। দেখতে পারছিস?’
‘হ্যাঁ।’
‘সেটার নিচে গেলে, ছোট গোল গোল মচমচে পাতা পাবি। একটা একটা করে যতগুলো পারিস নিয়ে আয়।’
পিঁপতু জিজ্ঞেস করল, ‘আচ্ছা রাণী-মা, এ পাতাগুলো দিয়ে কী করবে?’
‘জানিসই তো, এবার মাটির গভীরে বাসা বানাচ্ছি। সেখানকার মাটিগুলো খুব ভেজা থাকে। ভেজা জায়গায় থাকতে অসুবিধা হবে সবার। এ পাতাগুলো সেখানে বিছাবো। শুকনো ও মচমচে হওয়ায় পাতারা সব পানি চুষে নেবে। ফলে জায়গাটি শুস্ক হয়ে যাবে। আমাদেরও থাকতে আর কোনও সমস্যা হবে না। এবার যা, ঝটপট নিয়ে আয়।’
‘আচ্ছা, ঠিকাছে।’

পিঁপতু ছিল ভীষণ অলস। হেলে-দুলে অনেক সময় ব্যয় করে তেঁতুলগাছটির নিচে গেল সে। গিয়ে মনে মনে বলল, ‘উফ! খুব ক্লান্ত হয়ে গেছি। একটু জিরিয়ে নিই।’
সেখানে পড়ে থাকা একটি গোল-পাতার নিচে পিঁপতু ঢুকে পড়ল।
কয়েক ঘণ্টা পেরুল। শ্রমিক-পিঁপড়েদের অক্লান্ত পরিশ্রমে বাসাটি মোটামুটি তৈরি হয়ে গেল৷ এবার পাতা বিছানোর পালা। কিন্তু বাসার আশেপাশে তো কোনও পাতা নেই! পিঁপতু কোথায়? দলের মধ্যে তাকে খুঁজে পেলেন না রাণী। চিন্তায় পড়ে গেলেন। পাতা আনতে গিয়ে কোনও বিপদে পড়েনি তো! সবাই মিলে পিঁপতুকে খুঁজতে শুরু করল। তেঁতুলগাছটির নিচে গিয়েও দেখল। নেই। চিৎকার করে করে ডাকল। তাতেও কোনও সাড়া-শব্দ পায়নি। রাণী-পিঁপড়ের ভীষণ মন খারাপ হলো। নিজের ওপর নিজেই রাগ হলেন। মনে মনে ভাবলেন, বাচ্চাটাকে একা একা পাঠানো ঠিক হয়নি। তা-না-হলে হয়তো আজ তাকে এভাবে হারাতে হতো না। কী আর করার! মন খারাপ করে বসে থাকলে তো হবে না। অনেক কাজ এখনও বাকি। কয়েকজন শ্রমিক-পিঁপড়েকে রাণী নির্দেশ দিলেন, মচমচে পাতাগুলো বাসায় নিয়ে যেতে৷ সেটাই করছিল তারা। একটি, দুটি, তিনটি করে পাতাগুলো নিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ এক শ্রমিক-পিঁপড়ে একটি তেঁতুলপাতা কাঁধে নিতে গিয়ে দেখে, সেটার নিচে পিঁপতু ঘুমিয়ে আছে। রাণীকে খবর দেওয়া হলো। আচমকা গায়ের ওপর থেকে পাতাটি সরে যাওয়ায় ঘুম ভেঙে গেল তার। রাণী ছুটে এলেন। এসেই জড়িয়ে ধরলেন পিঁপতুকে। কান্না কান্না কণ্ঠে বললেন, ‘কত করে খুঁজলাম তোকে। পেলামই না। কোথায় ছিলি, বল তো? কোনও বিপদে পড়িসনি তো…’
হাই তুলতে তুলতে পিঁপতু জবাব দিলো, ‘না রাণী-মা। বিপদ কীসের! আমি তো এখানেই ছিলাম। এই পাতাটির নিচে। একটু জিরিয়ে নিতে গিয়ে কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম, বলতেই পারব না।’
‘আহারে বাচ্চাটা আমার! চল, বাসায় গিয়ে ঘুমাবি।’
‘বাসা? বাসা তৈরি হয়ে গেছে, মা?’
‘হ্যাঁ। সাজানোটাই বাকি কেবল।’
শুনে পিঁপতু ভীষণ খুশি হলো। মনে মনে ভাবল, ঘুমিয়ে ভালোই হলো। বিশাল একটা কাজ থেকে বাঁচা গেল।
ধীরে ধীরে পুরো বাসাটি সাজিয়ে ফেলল পিঁপড়েরা। গাছের চিকন ডাল দিয়ে বানানো হলো চেয়ার, টেবিল, খাটসহ প্রয়োজনীয় সব আসবাপত্র। বিছানা বানানো হলো লম্বা লম্বা পাতা দিয়ে। কলা পাতা দিয়ে তৈরি করে নেওয়া হলো খাবারের দরকারি পাত্রগুলো। কয়েকজন মিলে জোনাকপোকা শিকার করে আনল। বাসার আশেপাশে ও উপরে জোনাকপোকার আলো লাগিয়ে দিলো। তাতেই কী যে ঝকঝকে ও আলোকিত হয়ে গেল বাসাটি! দেখেই সবার মন ভালো হয়ে গেল।
এভাবেই চলতে থাকল পিঁপড়েদের জীবন।
কয়েকদিন ধরে রাণী-পিঁপড়ের মন ভালো নেই। পিঁপতুকে নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি। কোনও কাজই করতে চায় না ছেলেটা। সারাদিন খায় আর ঘুমায়। রাণী তার জীবনে শত শত ছানাপোনা ফুটিয়েছেন। কই? তারা কেউ তো এমন অলস হয়নি! সবাই মন দিয়ে কাজ করে। তাদের কাছে কাজই সব। পিঁপতু যে কোত্থেকে এমন হলো!
না, একজন কাজ না করলে পিঁপড়েদের না খেয়ে মরতে হবে না। তবে কেন এত দুশ্চিন্তা? কারণ কাজ না করার কারণে দিনদিন সে অস্বাভাবিক মোটা হয়ে যাচ্ছে। মোটা শরীরে রোগবালাই হবার সম্ভাবনা থাকে। অমন কিছু হয়ে গেলে? তা ছাড়া পরিশ্রমী প্রাণী হিসেবে পিঁপড়েদের একটা সুনাম আছে। পিঁপতুর কথা কেউ জেনে ফেললে এ সুনাম কী আর থাকবে? থাকবে না। রাণী-পিঁপড়ে তাকে অনেকভাবে বুঝানোর চেষ্টা করেছেন। কোনোভাবেই সফল হননি।
একদিন একটি ছোট্ট-পিঁপড়ে বাইরে থেকে দৌড়ে বাসায় এলো। দেখল, পিঁপতু অলস হয়ে বসে আছে। হাঁপাতে হাঁপাতে পিঁপড়েটি বলল, ‘ভাইয়া, ভাইয়া, দেখে যা। বাইরে কী এক মজার কাণ্ড ঘটছে!’
‘তাই নাকি? কী কাণ্ড রে?’
‘দেখে তো যা। অনেক মজা পাবি।’
ছোট্ট-পিঁপড়ের কথা শুনে বসা থেকে উঠে দাঁড়াল পিঁপতু। বাসা থেকে বের হবার জন্য চিকন সুড়ঙ্গটির দিকে এগিয়ে গেল। অনেক কষ্টে সুড়ঙ্গে মাথা ঢুকাতে পারলেও পেট ঢুকাতে পারেনি সে। কারণ পিঁপতুর পেট সুড়ঙ্গের ফাঁকা জায়গাটির চেয়েও মোটা। খানিক চেষ্টা করার পর সে মনে মনে ভাবল, দুর! দেখতে হবে না মজার কাণ্ড। তারচে বরং বাসায় বসে ঝিমানোটাই ভালো। সুড়ঙ্গ থেকে মাথা বের করতে চাইল এবার। ওমা, তাও পারল না! অনেক চেষ্টার পরও ব্যর্থ হলো সে। তার এ অবস্থা দেখে ছোট্ট-পিঁপড়েটি ভয়ে চিৎকার-চেচামেচি শুরু করে দিলো।
রাণী-মা ঘুমে ছিলেন। ছোট্ট-পিঁপড়ের গলার আওয়াজ শুনে তাড়াহুড়ো করে উঠে এলেন। দেখলেন, পিঁপতুর নাজেহাল অবস্থা। সুরঙ্গের মুখে আটকে আছে সে। পাগুলো অনবরত নড়ছে। তারপর রাণী টেনে উদ্ধার করলেন পিঁপতুকে। ঘেমে একাকার সে।
রাণী-মা রাগীস্বরে বললেন, ‘কত করে বললাম তোকে। এমন অলস হয়ে থকিস না। কাজ কর। বেশি না পারিস, অল্প হলেও কর। শরীরটা একটু কমা। দেখলি তো, অতিরিক্ত মোটা হলে কী অসুবিধা?’
পিঁপতু মাথা নিচু করে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল। রাণী-মা আবারও বললেন, ‘শরীর কমাতে না পারলে তোর কপালে আরও কঠিন কঠিন বিপদ আছে। এখনও সময় আছে, শুয়ে-বসে না থেকে কাজে মন দে।’
পিঁপতু মিনমিন করে বলল, ‘কঠিন কী বিপদ?’
‘কত্ত বড় সাহস তোর, মুখের ওপর আবার জিজ্ঞেস করিস! বিপদের কী অভাব আছে? এ বাগানে খাদ্যের অভাব দেখা দিলে অন্য জায়গায় চলে যেতে হবে আমাদের। তখন বাসা থেকে তুই বের হবি কীভাবে?’
‘ও আচ্ছা, এ কথা! সেটা হতে দেরি আছে অনেক। এ বাগানে প্রচুর খাদ্য। তা ছাড়া অন্য জায়গায় চলে যাবার একমাস আগে খাওয়াদাওয়া কমিয়ে দিলেই চিকন হয়ে যাব। বের হওয়া নিয়ে এত চিন্তা করো না তো!’
রাণী-মা মুখ কালো করে বললেন, ‘আজ এমন বিপদে পড়েও তোর শিক্ষা হলো না। এখনও সেই আলসেমির পক্ষেই কথা বলছিস। একটা কথা মনে রাখিস, কখনও কোনও কাজ পরে করার জন্য রেখে দেওয়া ঠিক না। যখনেরটা তখনই করে ফেলা ভালো। কারণ সব বিপদ বলে আসে না।’
‘আচ্ছা, দেখা যাক!’ এই বলে পিঁপতু বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ল। তার অমন আচরণে রাণী-মা ভীষণ কষ্ট পেলেন।

কয়েকদিন পরের ঘটনা।
হঠাৎ করেই বাইরে প্রচণ্ড বাতাস শুরু হলো। নদীর অশান্ত ঢেউগুলো কূলে এসে ভীষণ জোরে আছড়ে পড়ছিল। পানির আঘাতে আশেপাশের মাটি কেঁপে উঠছে। পিঁপড়েরা বাসায় জড়সড় হয়ে বসে আছে। রাণী সাহস করে বের হলেন। দেখলেন, ঝরাপাতারা এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করছে। আবহাওয়া খুব একটা ভালো না। টানা বৃষ্টি হতে পারে। নদীর পানি বাগানে উঠে আসার সম্ভাবনা আছে। বন্যাও থাকতে পারে কয়েকদিন। রাণী-পিঁপড়ে তাড়াহুড়ো করে বাসায় ফিরে এলেন। বললেন, ‘শোনো পিঁপড়েরা, এ সময় বাসায় থাকা আমাদের জন্য খুবই বিপজ্জনক।’
কয়েকটি শ্রমিক-পিঁপড়ে একসঙ্গে বলে ওঠল, ‘কেন রাণী-মা?’
‘বন্যা হতে পারে। বাসা ডুবে যাবে।’
শুকনো গলায় সবাই জানতে চাইল, ‘এখন উপায়?’
‘ভয় পাবার কিছু নেই। পাশেই একটা অর্জুনগাছ আছে। সেটার বাকলের নিচে সবাই আশ্রয় নেব। যে যতটুকু পারো বাসা থেকে খাবার নিয়ে সেই বাকলটির নিচে চলে যাও।’
রাণী-মার কথা শুনে পিঁপতু ভয়ে কাঁপতে শুরু করল। কান্না কান্না গলায় বলল, ‘সবাই বাসা থেকে চলে গেলে আমার কী হবে, মা?’
‘কী আর হবে, তুই তোর আলসেমির ফল ভোগ করবি!’
‘আমি তো বন্যার পানিতে হাবুডুবু খেয়ে মরে যাব।’
‘যাবি! তুই বেঁচে থেকেই-বা লাভ কী?’ বলতে গিয়ে রাণীরও চোখ ভিজে এলো। যতই হোক নিজেরই তো সন্তান।
পিঁপতু রাণী-মার পা জড়িয়ে ধরল। বলল, ‘যেভাবেই পারো আমাকে বাঁচাও, মা। এবারের মতো বেঁচে গেলে আর আলসেমি করব না। মন দিয়ে কাজ করব। আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি।’
রাণী-মা পিঁপতুকে পা থেকে ছাড়িয়ে বুকে জড়িয়ে নিলেন। তারপর ফিশফিশ করে বললেন, ‘বোকা ছেলে কোথাকার। কোনও মা-ই চান না তার সন্তান মরে যাক। ভয় পাস না। দেখছি, কী করা যায়।
পিঁপতু রাণী-মার কথা শুনে কিছুটা স্বাভাবিক হলো।
অনেক চিন্তাভাবনার পর রাণী-পিঁপড়ে একটি বুদ্ধি বের করলেন। সেটি হচ্ছে, পিঁপতু বাসার ভেতরে সুড়ঙ্গের মুখে পিঠ দিয়ে রাখবে। বাইরে থেকে শ্রমিক-পিঁপড়েরা সুড়ঙ্গে মাটি ফেলবে। মাটি ফেলা শেষ হলে সুড়ঙ্গের ভেতরের মুখটি পিঁপতু নিজের আঠালো রস দিয়ে আটকে দেবে। এবং বাইরের মুখটি আটকে দেবে শ্রমিক-পিঁপড়েরা। তাতে করে বাসায় আর পানি প্রবেশ করতে পারবে না।
সুড়ঙ্গ ভরাটের কাজটি পুরোপুরি শেষ হবার পর পিঁপড়েরা অর্জুনগাছের বাকলের নিচে আশ্রয় নিলো। পিঁপতু একাই বাসায় থেকে গেল। সেদিন ভীষণ ঝড়-তুফান হলো। বাগানে হাঁটু পরিমাণ পানি উঠল। একদিন, দুদিন, তিনদিন কেটে গেল।
এভাবে একা একা বাসায় থাকতে খুবই খারাপ লাগছিল পিঁপতুর। সুখে-দুঃখে একসঙ্গে থাকতে না পারার কষ্ট টের পাচ্ছিল সে। মনে মনে ভাবল, নিশ্চয় এটি আমার কর্মের ফল। এখন থেকে যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই খাব এবং সবার সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করব। আর কখনোই অলসতা করব না।
ঠিক পাঁচদিন পর বাগানের পানিগুলো নদীতে ফিরে গেল। শ্রমিক-পিঁপড়েরা গাছের বাকল থেকে নেমে বাসার সুড়ঙ্গটি খুঁড়তে শুরু করল। ভেতর থেকে বুঝতে পারল পিঁপতু। খুশিতে তার নাচতে ইচ্ছে করছে। ইশ, কতদিন পর সবাইকে দেখতে পাবে! টানা কয়েকদিন নীরব থাকা বাসাটি আবার হৈ-হুল্লোড়ে ভরে উঠবে।

Facebook Comments